
প্রদীপ চন্দ্র মম
ইংরেজি শেখার নামে
রাষ্ট্রের টাকায় রোদ পোহানো—
ফাইলে লেখা “দক্ষতা উন্নয়ন”,
বাস্তবে দক্ষতা : দায় এড়ানোর নিখুঁত কৌশল।
সচিবদের হাতে ABCD বই,
আর দপ্তরে পড়ে থাকে
অসংখ্য অনাথ ফাইল—
যেগুলো কোনো ভাষাই বোঝে না,
শুধু চায় কাজের সমাধান।
বিদেশ সফর—
জনপ্রশাসনের আধুনিক তীর্থযাত্রা,
যেখানে জবাবদিহিতা ভিসা পায় না,
কিন্তু বিলাসিতা পায় ভিআইপি লাউঞ্জ।
পাঠ্যসূচি গোপন নয়—
সকাল : সমুদ্রের দিকে তাকিয়ে “গভীর চিন্তা”,
দুপুর : শরীরচর্চা ম্যাসাজ টেবিলে,
রাত : কূটনৈতিক ভোজন—
পেট আর প্রভাবের নীরব সম্প্রসারণ।
এখানে শিক্ষা নেই,
আছে কেবল অভ্যাস—
কীভাবে জনগণের অর্থ
ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় রূপান্তর করা যায়।
দেশে ফিরে ঘোষণা—
“আমরা বিশ্বমানের ট্রেনিং পেয়েছি”—
হ্যাঁ, বিশ্বমানের অজুহাত তৈরির প্রশিক্ষণ।
এই দপ্তর বদলায় না,
বদলায় শুধু গল্প বলার ধরন—
আগে কাজ হতো না অদক্ষতায়,
এখন হয় না “স্ট্র্যাটেজিক কারণে”।
শেষ প্রশ্নটা তাই আর প্রশ্ন থাকে না—
এটা শিক্ষা নয়,
এটা বৈধ ভ্রমণকাহিনি—
যেখানে কেউ কিছু শেখে না,
তবু কেউ দায়ীও হয় না।
কারণ এখানে
ব্যর্থতাও শেষ পর্যন্ত
একটি নীরব প্রমোশন পায়।
০২/০৪/২০২৬ খ্রিঃ।