
নিজস্ব প্রতিবেদক
২০২৫–২৬ অর্থবছরের কাবিখা–কাবিটা কর্মসূচিকে ঘিরে সরিষাবাড়ী উপজেলা-তে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ২ কোটি ১০ লাখ টাকার চলমান প্রকল্পে ‘৪০ শতাংশ পর্যন্ত টাকা কর্তন’ করে নেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদগুলোর একাধিক সচিব। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) শওকত জামিল।

সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, প্রকল্পপ্রতি ৩৫ শতাংশ ‘বাধ্যতামূলক কর্তন’ এবং ‘সাংবাদিক, নেতাকর্মী ও অফিস খরচ’ দেখিয়ে আরও ৫ শতাংশ নেওয়া হয়। এই অর্থ না দিলে বিল পাসে জটিলতা সৃষ্টি হয় বলেও তারা দাবি করেন।
উপজেলার পিংনা, আওনা, পোগলদিঘা, ডোয়াইল, সাতপোয়া, কামরাবাদ, মহাদান ও ভাটারা—এই আট ইউনিয়নে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পগুলোকে ঘিরে অভিযোগটি এখন স্থানীয়ভাবে ‘ওপেন সিক্রেট’ হিসেবে আলোচিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ইউপি সচিব বলেন, “প্রকল্পের প্রতি ১০০ টাকায় প্রায় ৪০ টাকা বিভিন্ন খাতে কর্তনের কথা জানানো হয়। ফলে অবশিষ্ট অর্থে মানসম্মত কাজ বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়ে।” তাদের দাবি, বরাদ্দ সংকুচিত হওয়ায় কোথাও আংশিক কাজ, কোথাও কাগজে-কলমে অগ্রগতি দেখানোর প্রবণতা তৈরি হয়েছে। কয়েকটি প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
একাধিক প্রকল্প সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ২ লাখ ১০ হাজার টাকার একটি প্রকল্পে প্রায় ৮০ হাজার টাকা কর্তন করা হয় বলে তাদের অবহিত করা হয়েছে। স্ট্যাম্প ও অন্যান্য খরচের কথা উল্লেখ করে আরও প্রায় ৫ হাজার টাকা বাদ গেলে হাতে থাকে আনুমানিক ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা। এই অর্থে পূর্ণাঙ্গ কাজ সম্পন্ন করা কঠিন বলে তাদের মন্তব্য।
স্থানীয়দের অভিযোগ, “মাঠের কাজের চেয়ে কাগজে অগ্রগতি বেশি দেখা যাচ্ছে।”
তবে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে পিআইও শওকত জামিলের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
জনমনে এখন প্রশ্ন—যদি প্রকল্পের বাস্তবায়নে ঘাটতি থাকে, তবে তদারকি ও অনুমোদন প্রক্রিয়ায় দায় কার? আর সচিবদের অভিযোগ সঠিক হলে, সরকারি অর্থের উল্লেখযোগ্য অংশ কোন প্রক্রিয়ায় কর্তন হচ্ছে?
উল্লেখ্য, কাবিখা–কাবিটা কর্মসূচির মূল লক্ষ্য দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন। সেখানে বড় অঙ্কের অর্থ কর্তনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা গুরুতর অনিয়ম হিসেবে বিবেচিত হতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
তাদের দাবি, অভিযোগের দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করে জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা না হলে প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ফেরানো সম্ভব হবে না।