
ধনবাড়ি ( টাংগাইল) প্রতিনিধি:
টাঙ্গাইলের রাজনীতিতে আজ যে হাহাকার, তার মূলে রয়েছে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাকের নীতিহীন নেতৃত্ব। দলীয় ত্যাগী নেতাদের কোণঠাসা করে তিনি টাঙ্গাইল আওয়ামী লীগকে ‘হাইব্রিড’ নেতাদের অভয়ারণ্যে পরিণত করেছিলেন। আজ যখন দলের দুঃসময়, তখন দেখা যাচ্ছে তাঁর এবং তাঁর পরিবারের প্রকৃত রূপ।
পরিবারতন্ত্র ও অর্থনৈতিক উত্থান
একসময় যাঁর নির্বাচন করার মতো আর্থিক সামর্থ্য ছিল না, তৃণমূলের কর্মীরা চাঁদা তুলে যাঁকে জয়ী করেছিল,মন্ত্রী হওয়ার পর তিনি সেই কর্মীদেরই বিস্মৃত হয়েছেন। কর্মীদের ফোন ধরা তো দূরে থাক, তাদের অভিযোগ শোনার প্রয়োজনও মনে করেননি তিনি। পরিবর্তে, ক্ষমতার দাপটে গড়ে তুলেছেন নিজের পরিবারের অঢেল সম্পদ। আজ আওয়ামী লীগের হাজার হাজার নেতাকর্মী যখন জেল জুলুম ও নির্যাতনের শিকার, তখন তাঁর পরিবারের সদস্যরা সেই অর্থ দিয়ে ইউরোপে বিলাসী জীবন যাপন করছে।
গত জুলাই-আগস্টের গণআন্দোলনের সময় যখন আওয়ামী লীগ অস্তিত্ব সংকটে, তখন ড. রাজ্জাকের ছেলের ফেসবুক স্ট্যাটাসগুলো ছিল রীতিমতো রহস্যজনক ও উস্কানিমূলক। আন্দোলনকারীদের পক্ষ নিয়ে দেওয়া তাঁর সেই সব বক্তব্য তখনকার উত্তাল পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের বিপক্ষে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। একদিকে বাবা কারাগারে, দলের কর্মীরা ঘরছাড়া; অন্যদিকে তাঁর ছেলে সুমিত লালী ‘লাল বদর’দের হয়ে সাফাই গেয়ে বাধনকে নিয়ে ইউরোপ ভ্রমণে ব্যস্ত। এই বৈপরীত্যই বলে দেয়, তাঁদের কাছে রাজনীতি ছিল কেবলই সুযোগ নেওয়ার হাতিয়ার।
৫ই আগস্টের আগে কে কত বড় প্রভাবশালী ছিলেন,সেই হিসাব এখন আর চলবে না।
যারা দল ক্ষমতায় থাকাকালীন দুহাতে অর্থ কামিয়েছে, ৫ই আগস্ট এর পর বিমান ধরে নিরাপদে বিদেশে আশ্রয় আছে, তৃণমূল ক্যাটের হার মেনে নেবে না ।বর্তমানে দলের দুঃসময়ে কার ভূমিকা, সেটাই হবে আগামীর মাপকাঠি।
যারা কর্মীদের শ্রম ও ঘামে নেতা হয়ে পরবর্তীতে তাদেরই ‘লাথি’ মেরেছে, সেইসব সুবিধাবাদী ও কুলাঙ্গারদের স্থান আগামী দিনের রাজনীতিতে হতে পারে না।
খন্দকার তারিক হাসান লিপু উপদেষ্টা টাঙ্গাইল।