
হুমায়ূন আহমেদ
স্টাফ রিপোর্টার, বাংলাদেশ।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচন শুধু একটি রাজনৈতিক আয়োজন নয়—এটি রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এই সময়ে সাংবাদিকদের দায়িত্ব সবচেয়ে বেশি, আর ভুলের সুযোগ সবচেয়ে কম।
সারাদেশের সকল সিনিয়র সাংবাদিক সহকর্মীর ভাইদের প্রতি বিনীত ভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করে কিছু বলতে চাচ্ছি—
🔹 আমরা কারও পক্ষে নই, কারও বিপক্ষেও নই—আমরা সত্যের পক্ষে। নিরপেক্ষতা বজায় রাখুন। আবেগ নয়, সত্য উদঘাটনে প্রাধান্য দিন।
🔹 মাঠে কাজের সময় নিজ পরিচয়পত্র ও সাংবাদিক পর্যবেক্ষণ কার্ড সঙ্গে রাখুন। নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় নিজে সতর্ক থাকুন ও প্রয়োজন হলে নিরাপদ স্থানে দূরত্ব বজায় রাখুন।
🔹 উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে করণীয়:
সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে কখনোই ঘটনার অংশ হবেন না। আপনি পর্যবেক্ষক, অংশগ্রহণকারী নন। নিজের নিরাপত্তা সবার আগে নিশ্চিত করুন।
🔹 উস্কানিতে পা দেবেন না।
কোনো পক্ষ আপনাকে প্ররোচিত করতে পারে—লাইভে একপাক্ষিক মন্তব্য দিতে চাপ দিতে পারে, বা বিভ্রান্তিকর তথ্য সরবরাহ করতে বলতে পারে। মনে রাখবেন, সাংবাদিকের কাজ উত্তেজনা বাড়ানো নয়—পরিস্থিতি ঠান্ডা রেখে সকল জনতার সামনে সত্য তুলে ধরা।
🔹 যাচাই ছাড়া কিছুই প্রকাশ নয়।
একটি গুজব পুরো এলাকার পরিবেশ অস্থিতিশীল করতে পারে। ছবি, ভিডিও বা তথ্য পাওয়ার পর একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে যাচাই করুন। পুরনো বা ভিন্ন স্থানের ভিডিও যেন নতুন ঘটনার নামে প্রচার না
হয়—এ বিষয়ে বিশেষ সতর্ক থাকুন।
🔹 লাইভ সম্প্রচারে সংযম বজায় রাখুন।
নিশ্চিত তথ্যই বলুন। সন্দেহ থাকলে স্পষ্ট করে
বলুন—“তথ্য যাচাই চলছে।”
🔹 কোন মহলের চাপ বা হুমকির মুখে কখনোই একা সিদ্ধান্ত নেবেন না। প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক চাপ এলে তা তাৎক্ষণিকভাবে নিজ পত্রিকার ও মিডিয়ার সম্পাদক বা সংগঠনকে জানান।
🔹 সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যক্তিগত মতামত নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
এই সময় ব্যক্তিগত পোস্টও আপনার পেশাগত বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রভাবিত করতে পারে।
মনে রাখবেন—নির্বাচনের ফলাফল একদিনের বিষয়, কিন্তু আমাদের প্রকাশিত সংবাদ ইতিহাস হয়ে থাকবে।
একটি দায়িত্বশীল প্রতিবেদন শান্তি বজায় রাখতে পারে।
একটি অসতর্ক তথ্য বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে।
সত্য, সতর্কতা ও পেশাদারিত্বই হোক আমাদের শক্তি।
সকল সহকর্মীর নিরাপদ ও সফল দায়িত্ব পালনের জন্য মহান রাব্বুল আলামীন এর কাছে দোয়া কামনা করছি।