
প্রদীপ চন্দ্র মম
এই শহরে আজও কুয়াশা নামে—
কুয়াশার ভেতর ঝুলে থাকে পোস্টার, প্রতিশ্রুতি,
আর কিছু নাম—
যারা একদিন রক্তে লেখা হয়েছিল,
আজ কাগজে আর নেই।
রাত ফুরোয়; ভোর আসে না—
শুধু লাউডস্পিকারের গলায় ভোরের ঘোষণা বাজে;
পাখিরা যেন ডানা ভুলে গেছে,
নদী তার স্রোত,
মানুষ মানুষকে।
নেতারা কথা বলে—
শীতের আগুনের মতো উষ্ণ,
বর্ষার কাদার মতো পিচ্ছিল,
তাদের প্রতিশ্রুতি কুয়াশায় দাঁড়ানো গাছ—
পাতা সবুজ,
ভেতরে পোকায় খাওয়া কাঠ।
এই দেশ কি কেবল মানচিত্রে টিকে আছে?
না কি ভাঙা ঘরের দেয়ালে ঝোলানো ক্যালেন্ডার—
যেখানে প্রতিটি দিন লাল কালি দিয়ে
কারো না কারোর নাম কেটে দেওয়া হয়?
সংখ্যালঘুরা রাতে ঘুমোয় না—
ঘুম তাদের কাছে বিলাসিতা;
তারা জানে,
দরজার কপাটও একদিন ক্লান্ত হয়,
তালা ভেঙে গেলে
রাষ্ট্র অনেক দূরে দাঁড়িয়ে থাকে।
অর্ধেক মানুষ ভাবে—
কোন পথে গেলে নিরাপদ,
কোন কথাটা না বললে বাঁচা যায়;
তাদের বুকের ভেতর একটি পিঁপড়া হাঁটে—
নাম তার—ভয়;
ধীরে ধীরে রক্ত খেয়ে নেয়।
আমি এই রাস্তায় হাঁটি—
পোড়া টায়ারের ধোঁয়া,
ভোটের পতাকা,
এক শিশুর চোখে অজানা এক ভবিষ্যৎ—
এখনো জন্মায়নি,
তবু ইতিমধ্যেই ক্লান্ত।
কবিতার মতো কোনো নদী নেই এখানে—
তবু দূরে কোথাও শালিক ডাকে;
মনে হয়, সে বলতে চায়—
এই অন্ধ ঋতু পেরিয়ে
একদিন কি মানুষ
আবার মানুষের পাশে দাঁড়াবে?
নাকি আমরা সবাই
একটি দীর্ঘ নির্বাচনী রাতের ভেতর
নিজ নিজ ঘরে,
নিজ নিজ ভয় নিয়ে
অপেক্ষা করে থাকব—
ভোর হবে কি না;
নাকি আবার
নতুন এক অন্ধকার
রাষ্ট্র হয়ে ফিরে আসবে?
১১/০২/২০২৬ খ্রিঃ।