
মুফতি মাওলানা শামীম আহমেদ পাবনা জেলা প্রতিনিধি :
ইসলামে রাষ্ট্রব্যবস্থা এবং জনমতের গুরুত্ব অপরিসীম। আধুনিক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ‘ভোট’ দেওয়াকে ইসলামি পণ্ডিতগণ কেবল একটি রাজনৈতিক কাজ হিসেবে দেখেন না, বরং এটি একটি শরয়ি আমানত এবং সাক্ষ্য প্রদান (গাওয়াহি) হিসেবে বিবেচিত।
কুরআন ও হাদিসের আলোকে ভোটের গুরুত্ব এবং কাকে ভোট দেওয়া উচিত, সে সম্পর্কে নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
১. ভোট: একটি সাক্ষ্য বা শাহাদাত
ইসলামি শরিয়তে ভোট দেওয়া মানে হলো সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর ব্যাপারে সত্য সাক্ষ্য প্রদান করা। যদি আপনি জেনে-বুঝে কোনো অযোগ্য বা অসৎ ব্যক্তিকে ভোট দেন, তবে সেটি ‘মিথ্যা সাক্ষ্য’ হিসেবে গণ্য হবে।
কুরআনের দলিল:
আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন:
وَأَقِيمُوا الشَّهَادَةَ لِلَّهِ
“এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সঠিক সাক্ষ্য দান করো।” (সূরা আত-ত্বলাক, আয়াত: ২)
অন্য আয়াতে আল্লাহ মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে নিষেধ করেছেন:
فَاجْتَنِبُوا الرِّجْسَ مِنَ الْأَوْثَانِ وَاجْتَنِبُوا قَوْلَ الزُّورِ
“সুতরাং তোমরা মূর্তিপূজার অপবিত্রতা থেকে বেঁচে থাকো এবং পরিহার করো মিথ্যা বলা (বা মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া)।” (সূরা আল-হজ্জ, আয়াত: ৩০)
২. আমানত সঠিক ব্যক্তিকে প্রদান
ভোট বা ক্ষমতা একটি পবিত্র আমানত। এটি কেবল তাকেই দেওয়া উচিত যে এর ভার বহন করতে সক্ষম।
কুরআনের দলিল:
আল্লাহ তায়ালা নির্দেশ দিচ্ছেন:
إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُكُمْ أَن تُؤَدُّوا الْأَمَانَاتِ إِلَىٰ أَهْلِهَا
“নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন যে, তোমরা যেন আমানতসমূহ তার হকদারদের নিকট পৌঁছে দাও।” (সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৫৮)
হাদিসের দলিল:
রাসূলুল্লাহ (সা.) অযোগ্য ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেওয়াকে কিয়ামতের আলামত বলেছেন:
إِذَا وُسِّدَ الأَمْرُ إِلَى غَيْرِ أَهْلِهِ فَانْتَظِرِ السَّاعَةَ
“যখন কোনো দায়িত্ব (পদ বা ক্ষমতা) অযোগ্য ব্যক্তির নিকট অর্পণ করা হয়, তখন তুমি কিয়ামতের অপেক্ষা করো।” (সহিহ বুখারি, হাদিস নং: ৫৯)
৩. সুপারিশের দায়িত্ব
ভোট দেওয়ার অর্থ হলো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে জনপ্রতিনিধি হিসেবে সুপারিশ করা। এই সুপারিশের ফলাফল (ভালো বা মন্দ) ভোটারকেও ভোগ করতে হবে।
কুরআনের দলিল:
مَّن يَشْفَعْ شَفَاعَةً حَسَنَةً يَكُن لَّهُ نَصِيبٌ مِّنْهَا ۖ وَمَن