
কক্সবাজার প্রতিনিধি :
কক্সবাজারে দীর্ঘদিন পর ইয়াবার সাথে আবারো যোগ হয়েছে হেরোইনের চালান
কক্সবাজার শহরের বাঁকখালী নদীতীরের উত্তর নুনিয়ার ছড়ার প্যারাবন সংলগ্ন সমুদ্রতট থেকে ৬ লাখ ৩০ হাজার ইয়াবা ও ১০ কেজি হেরোইন সদৃশ্য মাদকের একটি বড় চালান উদ্ধার করেছে র্যাব-১৫। এ সময় চিহ্নিত দুই মাদক কারবারীকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার কারবারী মোঃ ইসমাইল ও নজরুল ইসলাম মায়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্তের বড় মাপের মাদক কারবারী।
সাম্প্রতিক সময়ে কক্সবাজারে উদ্ধার করা মাদকের চালানের মধ্যে এটি সবচেয়ে বড় মাপের চালান। তাছাড়াও দীর্ঘদিন পর মাদকের চালানে নতুন করে আবারো হেরোইন যোগ হয়েছে। আশি দশকে হেরোইনই ছিল কক্সবাজার সীমান্তের উল্লেখযোগ্য মাদক। সেই থেকে দীর্ঘদিন যাবত হেরোইন পাচার বন্ধ ছিল। কিন্তু এবারই এতবড় মাপের চালান নতুন করে আটক হল।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) র্যাব-১৫ এর আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ নেয়ামুল হালিম খান মাদকের চালান আটকের বিষয়টি গণমাধ্যমকে অবসহিত করেন। তিনি জানান, পার্শ্ববর্তী দেশ মায়ানমার থেকে সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে সমুদ্রপথে মাছ ধরার ট্রলারের সাহায্যে দেশে মাদক পাচার করা হয়—এমন গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার ভোর সাড়ে ৬টার দিকে উত্তর নুনিয়ার ছড়ার প্যারাবন সংলগ্ন সমুদ্রতটে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানকালে র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে দুইজন ব্যক্তি দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে র্যাব সদস্যরা তাদের আটক করেন। পরে জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যে সমুদ্রতটের বালির নিচে লুকানো চারটি প্লাস্টিকের বস্তা উদ্ধার করা হয়। এসব বস্তার ভেতর থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ও হেরোইন সদৃশ্য মাদক পাওয়া যায়।
গ্রেপ্তারকৃত মাদক কারবারী মোঃ ইসমাইল (৪৩) চকরিয়া উপজেলার চরনদ্বীপ এলাকার মৃত হোসেন আহমেদের ছেলে। অপরজন নজরুল ইসলাম (৪২) উখিয়া উপজেলার পালংখালী এলাকার মৃত সাবের আহমেদের ছেলে। র্যাব জানায়, তারা দীর্ঘদিন ধরে পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে মাদক এনে কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করে আসছিল।
র্যাব অধিনায়ক বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ঘোষিত জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে নিয়মিত গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালে র্যাব-১৫ এর অভিযানে ৫৮ লাখের বেশি ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। ২০২৬ সালের শুরুতেও একাধিক অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে র্যাব।