
প্রদীপ চন্দ্র মম
সন্ধ্যা নামে ধীরে,
দেওয়ালে ছড়িয়ে পড়ে ফাটলের আঁচল।
একজন মানুষ দাঁড়িয়ে থাকে—
হাতে শেকল, চোখে আকাশের প্রতিফলন।
সে কিছু জানে না,
শুধু অনুভব করে—
সময় তাকে ভুলে গেছে।
পানি ভিজে আছে শিশুর গালে,
হাওয়া ঠোঁটের কাছে থমকে দাঁড়ায়।
একটি হাত,
যা তাকে শেষবার চেয়ে দেখেছিল,
এখন অন্ধকারে ডুবে গেছে।
ফটকের বাইরে বসে আছে আইন,
শুধু কাগজের স্রোত বয়ে যায়।
এখানে কান্না নেই,
শুধু নিঃশব্দে ছড়ানো
লাঠির মতো ঘৃণা।
লাশের চোখে আলো নেই,
তবু তারা সব দেখেছে।
একজন জীবিত মানুষকে
দেখতে এসেছে—
সময়ের গহ্বরের ভেতর দিয়ে।
কোনো শব্দ আসে না;
শুধু নীরবতার গভীরতা,
যেমন রাতের আঙিনায়
জমে থাকা ধুলো।
বাবাটি দাঁড়িয়ে থাকে,
যেন কেউ ঘাসের নিচে তাকাচ্ছে
শেষ পাখিটি হারানোর আগে।
রাত নেমেছে—
ধানক্ষেতের নয়,
মানুষের ভেতরে।
ফটক বন্ধ।
শুধু ছায়া।
এক জীবিত, দুটি মৃত।
বাতাসে এখন কেবল প্রশ্ন ভাসে—
মানুষ কি বাঁচে?
নাকি লাশই শুধু
দেখার জন্য আসে?
২৫/০১/২০২৬ খ্রিঃ।