
নিজস্ব প্রতিবেদক
সন্তান অসুস্থ হলে প্রকৃতি যেন হঠাৎ করেই তার সবচেয়ে কঠিন রূপটা দেখায়।
সারাদিন শক্ত বলে নিজেকে যতই প্রমাণ করি না কেন, সন্তানের জ্বরের কপালে হাত রাখার মুহূর্তে সব শক্তি ভেঙে পড়ে। ছোট্ট শরীরটা যখন কাঁপে, তখন মনে হয়—এই কাঁপুনিটা যদি আমার বুকে এসে লাগতো! ওর ব্যথাটা যদি আমি নিতে পারতাম!
হাসপাতালের সাদা আলোয় দাঁড়িয়ে থাকা একজন বাবা হঠাৎ খুব ছোট হয়ে যায়। চোখের সামনে কত ডাক্তার, কত ওষুধ, কত নিয়ম—তবুও মনটা শুধু একটাই প্রশ্ন করে, “আমার সন্তানের কষ্ট কেন?” প্রকৃতির কাছে তখন কোনো যুক্তি চলে না, কোনো হিসাব মেলে না। মনে হয়, প্রকৃতি বড়ই নির্মম—যেখানে নিষ্পাপ মুখের উপরও সে নির্দ্বিধায় কষ্ট চাপিয়ে দেয়।
রাতে যখন সন্তান ঘুমায় না, বাবাও ঘুমায় না। বিছানার পাশে বসে থাকা সেই নীরব প্রহর—কেউ দেখে না, কেউ বোঝে না। চোখের কোণে জমে থাকা অশ্রু লুকিয়ে রাখতে হয়, কারণ বাবারা কাঁদে না—এই মিথ্যেটার ভারও বইতে হয় তখন। অথচ ভিতরে ভিতরে বাবা প্রতিটা নিঃশ্বাসে আল্লাহর কাছে মিনতি করে, “ওকে সুস্থ করে দাও, আমার যা আছে সব নিয়ে নাও।”
সন্তানের কপালে একটু স্বস্তির ছাপ দেখলেই বাবার বুকটা হালকা হয়। মনে হয়, প্রকৃতি হয়তো এক মুহূর্তের জন্য দয়া দেখিয়েছে। সেই মুহূর্তে বাবা বুঝে যায়—জীবনের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা আর সবচেয়ে বড় শক্তি দুটোই এক জায়গায়—সন্তানের অসহায় মুখে।
সন্তান যখন অসুস্থ হয়, তখন একজন বাবা শুধু বাবা থাকে না—সে হয়ে ওঠে প্রার্থনা, পাহারা, আর নিঃশব্দ ভালোবাসার এক অবিচল নিদর্শন।