
প্রদীপ চন্দ্র মম
আমরা আর মানুষ হবো কবে—
এই প্রশ্ন ঝরে পড়ে সন্ধ্যার ধুলোয়,
নগরের ফুটপাথে বিশ্বাস পড়ে থাকে
ছেঁড়া পাতার মতো, পায়ের নিচে।
মানুষ মানুষকে দেখে—চিনে না,
চোখে চোখ রেখে এড়িয়ে যায়,
পিতা বার্ধক্যে জানালার পাশে,
সন্তান ব্যস্ত—নিজস্ব স্বর্গ সাজায়।
ভরণপোষণ আজ দায় নয়,
একটি পুরোনো শব্দের কঙ্কাল,
যার অর্থ কেউ আর খোঁজে না
সভ্যতার শব্দকোষে।
মানুষ তার মানবতাকে কবর দিয়েছে,
তবু শান্তি পায়নি—
কবর খুঁড়ে তুলে আনে লাশ,
উল্লাসের আগুনে পুড়িয়ে হাসে।
ধর্মের নামে উড়ে বেড়ায় ছুরি,
প্রার্থনার স্থানে জমে রক্ত।
মানুষ মানুষকে মারে ঈশ্বর দেখাতে—
ঈশ্বর— তখন মুখ ফিরিয়ে নেন।
সত্য আজ ক্লান্ত পথিক,
মিথ্যার ভিড়ে হারিয়ে যায়।
গুজব ছুটে চলে দ্রুততম— বাহনে,
তার নিচে পিষ্ট হয় নিরপরাধ শরীর।
ভাবনা নেই, প্রশ্ন নেই—
শুধু হাততালি।
নৃশংসতার মঞ্চে
মানুষই শ্রেষ্ঠ দর্শক।
অমানবিকতায় ঘৃণা নয়—
মানুষ নিজেই ঢালে তেল,
নিজের আগুনে নিজেই পুড়ে
নিজেকে নির্দোষ ঘোষণা করে।
হায় রে মানুষ,
তুমি আজ পশুর থেকেও— নীচু।
পাখিরা সন্ধ্যায় একসঙ্গে ফেরে,
হরিণ শাবককে বাঁচায় বুকের ছায়ায়।
নদী নদীর ভাষা বোঝে,
বন বনকে ছাড়ে না,
আর তুমি—
সভ্যতার মুখোশে
বর্বরতার নিখুঁত প্রতিমা।
তবু দূরে, কোনো এক শালিখ
অপরাহ্নের ডালে বসে জানে—
মানুষ একদিন মানুষ হবে।
আমি সেই শালিখের মতো
অপেক্ষা করি—
নিস্তব্ধ, অনড়,
শেষ বিশ্বাসটুকু বুকে নিয়ে।
১৭/০১/২০২৬ খ্রিঃ।