
নিজস্ব প্রতিবেদক
ইতিহাস কখনো কেবল কাগজে লেখা থাকে না; ইতিহাস বেঁচে থাকে মানুষের স্মৃতিতে, অনুভবে, কথোপকথনে। শরিফ উসমান হাদী সেই ধরনেরই এক নাম—যিনি কেবল একজন ব্যক্তি নন, বরং একটি সময়, একটি ভাবনা, একটি অবস্থানের প্রতীক।
প্রশ্নটা তাই সহজ নয়—তিনি মুছে যাবেন কি না। কারণ মানুষের হৃদয় থেকে কাউকে মুছে যেতে হলে, আগে তার রেখে যাওয়া ছাপগুলো মুছে যেতে হয়। আর সেই ছাপ যদি আদর্শ, সংগ্রাম, সাহস বা মানুষের পাশে দাঁড়ানোর স্মৃতি হয়—তাহলে সময় তাকে সহজে মুছে ফেলতে পারে না।
বাংলার মানুষ আবেগপ্রবণ, কিন্তু ভুলে যাওয়ার জাতি নয়। যারা ক্ষমতার জোরে আসে, সুবিধার রাজনীতিতে ভেসে থাকে—তাদের নাম সময়ের ধুলোয় চাপা পড়ে। কিন্তু যারা মানুষের কষ্টের সাথে যুক্ত থাকে, ন্যায়ের পক্ষে কথা বলে, ঝুঁকি নিয়ে সত্য উচ্চারণ করে—তাদের নাম প্রজন্মের পর প্রজন্মে রয়ে যায়, কখনো আলোচনায়, কখনো নীরব স্মরণে।
শরিফ উসমান হাদীর ক্ষেত্রেও সেই বাস্তবতাই প্রযোজ্য। তাকে কেউ পছন্দ করুক বা না করুক, অস্বীকার করার উপায় নেই—তিনি মানুষের ভাবনায় একটি দাগ কেটেছেন। বিতর্ক, সমালোচনা, সমর্থন—সব মিলিয়েই একজন মানুষ ইতিহাসে জায়গা করে নেয়। ইতিহাসে শূন্যতা থাকে না; সেখানে থাকে প্রভাব।
তবে এটাও সত্য, স্মৃতি টিকে থাকে যতক্ষণ তার চর্চা থাকে। আদর্শ যদি উত্তরাধিকার না পায়, যদি নতুন প্রজন্মের কাছে গল্পগুলো না পৌঁছায়, তাহলে স্মৃতি ধীরে ধীরে ঝাপসা হয়। তাই প্রশ্নটা আসলে ব্যক্তির নয়, সমাজের—আমরা কী মূল্য দিই, কাকে মনে রাখি, কেন মনে রাখি।
সুতরাং বলা যায়, শরিফ উসমান হাদী সম্পূর্ণভাবে মুছে যাবেন—এটা খুব সহজ নয়। কারণ মানুষ ভুলে যায় মুখ, ভুলে যায় তারিখ, কিন্তু ভুলে না অনুভূতি। আর যে নাম মানুষের অনুভূতির সাথে জড়িয়ে যায়, সে নাম সময়ের স্রোতে হারালেও হৃদয়ের গভীরে কোথাও না কোথাও থেকে যায়।
শেষ পর্যন্ত ইতিহাস একটাই প্রশ্ন করে—কে কী রেখে গেল? সেই প্রশ্নের উত্তর যতদিন মানুষের মুখে মুখে ঘুরবে, ততদিন শরিফ উসমান হাদীও বাংলার মানুষের হৃদয়ে কোনো না কোনোভাবে বেঁচে থাকবেন।
আল আমিন মিলু
রাজনৈতিক বিশ্লেষক গবেষক লেখক এবং
আহ্বায়ক গনঅধিকার পরিষদ
সরিষাবাড়ি উপজেলা শাখা জামালপুর