
নিজস্ব প্রতিবেদক
মায়া জিনিসটা বোধ হয় সত্যিই অন্য রকম।
এটা কারো রূপ দেখে আসে না, আসে ভিতর থেকে—নিঃশব্দে, অজান্তে।
এর গভীরতা যে মাপতে পারে না, সে হয়তো সবচেয়ে হতভাগা মানুষ।
আমি তাকে প্রথম ভালোবেসেছিলাম রূপ দেখে না, কথাও খুব বেশি হয়নি।
ভালো লেগেছিল তার নীরবতা।
যেভাবে সে চোখ নামিয়ে হাঁটত,
যেভাবে অকারণেই দীর্ঘশ্বাস ফেলত—
মনে হতো, এই মানুষটার ভেতরে অনেক গল্প লুকিয়ে আছে।
দিন যেতে যেতে বুঝলাম, আমি প্রেমে পড়িনি—আমি মায়ায় জড়িয়ে পড়েছি।
ওর মন খারাপ হলে আমার বুক ভারী হয়ে উঠত,
ও হাসলে অকারণেই আমার দিনটা সুন্দর হয়ে যেত।
ওর পাশে থাকলে কিছু না বললেও চলত,
নীরবতাই তখন সবচেয়ে গভীর কথায় পরিণত হতো।
একদিন সে বলেছিল,
“তুমি কেন এতটা বুঝো আমাকে?”
আমি উত্তর দিতে পারিনি।
কারণ কিছু বোঝা শেখা যায় না,
কিছু অনুভব শুধু হয়ে যায়।
সময় বদলাল, পরিস্থিতি বদলাল,
কিন্তু মায়া বদলালো না।
সে দূরে চলে গেল,
আর আমি বুঝলাম—
ভালোবাসা না থাকলেও মায়া থেকে যায়।
ভালোবাসা হয়তো দাবি করে,
কিন্তু মায়া শুধু নিঃস্বার্থভাবে থেকে যায়।
আজো আমি তাকে চাই না,
ফিরে আসুক—এই প্রার্থনাও করি না।
তবু কোথাও একটা জায়গায়
তার ভালো থাকাটা আমার নিজের মতোই জরুরি মনে হয়।
এটাই বোধ হয় মায়া।
যেখানে পাওয়া না-পাওয়ার হিসাব নেই,
আছে শুধু নিঃশব্দ একটা টান—
যা দূরত্ব মানে না, সময় মানে না,
শুধু হৃদয়ের গভীরে চুপচাপ বেঁচে থাকে।