
নিজস্ব প্রতিবেদক
বিগত ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ফলাফলকে যারা তুচ্ছ মনে করছেন, তারা আসলে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা অবহেলা করছেন। ইতিহাস বলে—ছাত্র রাজনীতি কখনোই বিচ্ছিন্ন কোনো দ্বীপ নয়; এটি বরাবরই জাতীয় রাজনীতির আগাম সূচক হিসেবে কাজ করেছে। তরুণদের মনোভাব, প্রতিবাদ, প্রত্যাখ্যান ও আকাঙ্ক্ষা প্রথমে প্রতিফলিত হয় শিক্ষাঙ্গনে, পরে তা ছড়িয়ে পড়ে রাষ্ট্রের বৃহত্তর পরিসরে।
ছাত্র সংসদ নির্বাচনে যদি জনগণের প্রত্যাশার বিপরীতে ফলাফল আসে, কিংবা প্রশাসনিক প্রভাব ও মনগড়া সমীকরণ দৃশ্যমান হয়, তাহলে সেটি শুধুমাত্র একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সমস্যা থাকে না—এটি জনগণের আস্থার সংকটের জন্ম দেয়। যারা ভাবছেন, এসব ফলাফল গুরুত্বহীন এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একই কৌশল প্রয়োগ করলেই সব নিয়ন্ত্রণে থাকবে, তারা আসলে বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছেন।
বর্তমান জনগণ আর আগের মতো নয়। তথ্যপ্রযুক্তি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক সচেতনতা জনগণকে অনেক বেশি প্রশ্নবোধক করে তুলেছে। মানুষ এখন ফলাফলের চেয়েও প্রক্রিয়াকে বেশি গুরুত্ব দেয়। ভোটাধিকার, অংশগ্রহণ ও ন্যায্যতার প্রশ্নে সামান্য অবহেলাও বড় প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিতে পারে—যা হয়তো তাৎক্ষণিক নয়, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে ভয়াবহ।
সবচেয়ে বড় বিষয় হলো—জনগণ কী চায়, তা না বুঝেই যদি সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে শাসন টেকসই হয় না। ছাত্র সংসদের ফলাফল আসলে একটি সতর্ক সংকেত—এটি দেখিয়ে দেয় মানুষ কতটা বিরক্ত, কতটা অনাস্থাশীল এবং কতটা পরিবর্তন প্রত্যাশী।
অতএব, যারা এখনো মনগড়া ফলাফলের স্বপ্ন দেখছেন, তাদের জন্য সময় আছে সতর্ক হওয়ার। কারণ ইতিহাস সাক্ষী—জনগণের ইচ্ছাকে উপেক্ষা করে কেউই দীর্ঘদিন ক্ষমতার সমীকরণ ধরে রাখতে পারেনি। জনগণ যখন সিদ্ধান্ত নেয়, তখন সেই সিদ্ধান্ত কোনো ছাত্র সংসদে আটকে থাকে না; তা একসময় জাতীয় রাজনীতির মঞ্চে বিস্ফোরিত হয়।
আল আমিন মিলু
রাজনৈতিক বিশ্লেষক গবেষক লেখক এবং
আহ্বায়ক গনঅধিকার পরিষদ
সরিষাবাড়ি উপজেলা শাখা জামালপুর