
নিজস্ব প্রতিবেদক
আমরা এক অদ্ভুত জাতি—যাদের চিন্তার মানদণ্ডে যুক্তি নয়, আবেগই শেষ কথা। নার্সারির বাচ্চাকে পড়াতে চাই মাস্টার্স ডিগ্রিধারী শিক্ষক, সাথে চাই ইংরেজি উচ্চারণ, স্মার্টনেস আর “স্ট্যাটাস”। কারণ, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম নাকি খুব গুরুত্বপূর্ণ।
কিন্তু সেই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের দেশটা কে চালাবে—সেখানে আমাদের হিসাব একেবারেই উল্টো।
দেশ চালানোর জন্য আমরা খুঁজি না যোগ্যতা, নৈতিকতা কিংবা শিক্ষাগত দক্ষতা। বরং খুঁজি—কে কত বড় মাস্তান, কার পেছনে কত অস্ত্রধারী, কে কত বড় চাঁদাবাজ, কে কত বেশি লুটপাট করতে পারে আর কে কতটা ভয় দেখাতে পারে। যোগ্যতা নয়, “ক্ষমতা”ই এখানে আসল সার্টিফিকেট।
আমরা জানি কে দুর্নীতিবাজ, তবু তাকেই ভোট দেই। জানি কে সন্ত্রাসী, তবু তাকেই নেতা বানাই। কারণ সে “আমাদের লোক”। আদর্শ নয়, সম্পর্কই এখানে রাজনীতির মূলনীতি। দেশ নয়—দল আগে, নীতি নয়—নেতা আগে।
সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, এই দ্বিচারিতার পরেও আমরা খুব আবেগী দেশপ্রেমিক। ফেসবুকে পতাকা বদলাই, স্ট্যাটাসে দেশ বাঁচাই, কিন্তু বাস্তবে দেশ চালানোর চাবিটা তুলে দেই অশিক্ষিত, লুটেরা গোষ্ঠীর হাতে। তারপর অবাক হই—দেশ কেন পিছিয়ে, কেন আইন নেই, কেন ন্যায়বিচার নেই!
আসলে সমস্যা নেতাদের একার নয়। সমস্যা আমাদের সম্মিলিত মানসিকতায়। আমরা যোগ্য লোককে পাশে বসিয়ে তুচ্ছ করি, আর অযোগ্য লোকের পেছনে দাঁড়িয়ে হাততালি দেই। এই জাতি পরিবর্তন চায় না—এই জাতি শুধু মুখে অভিযোগ করতে ভালোবাসে।
তাই হ্যাঁ, আমরা সত্যিই বিশ্বের সবচেয়ে ‘কিউট’ জাতি—
কারণ আমরা বাচ্চার ভবিষ্যৎ নিয়ে অতিরিক্ত সচেতন,
আর দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভয়ংকর রকম উদাসীন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক গবেষক লেখক এবং
আহ্বায়ক গনঅধিকার পরিষদ
সরিষাবাড়ি উপজেলা শাখা জামালপুর