
নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় তৃণমূল হচ্ছে শক্তির মেরুদণ্ড, অথচ অনেকেই এই মেরুদণ্ডকেই উপেক্ষা করার ভুল করেন। রাজনীতিতে চমক দেখিয়ে, বড় বড় স্লোগান দিয়ে বা কেন্দ্রে কিছু মানুষের মনোযোগ পেলেই জনপ্রিয় হওয়া যায়—এমন ভুল ধারণা যেমন বহুদিনের, তেমনি এর পরিণতিটাও তিক্ত। কারণ রাজনীতির সফলতা কোনোদিনই উপরের গুটিকয়েক সিদ্ধান্তনির্ভর নয়; সফলতা জন্মায় নিচের তৃণমূলের হৃদয়ের ভেতর থেকে।
তৃণমূল মানে শুধু ভোটার নয়—এরা হলো মাঠের কর্মী, সমর্থক, গ্রামের লোকজন, বাজারের আড্ডা, চায়ের দোকানের আলোচনা, মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা, সুখ-দুঃখ। এদের বাদ দিয়ে যে রাজনীতি করা হয়, তা কখনোই লম্বা পথ চলতে পারে না। বরং ইতিহাস বলে: যেসব নেতা তৃণমূলের সঙ্গে সম্পর্ক হারিয়েছেন, তাদের রাজনৈতিক অবস্থান যত শক্তই হোক না কেন, শেষ পর্যন্ত ভেঙে পড়েছেন।
একজন নেতার জনপ্রিয়তা তৈরি হয় তার আচরণ, তার সততা, তার মানুষের কাছে থাকার ক্ষমতা দিয়ে। তৃণমূলকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে রাজনীতি মানে নিজের পায়ের নিচের মাটি আলগা করে ফেলা। কারণ তৃণমূলই সেই শক্তি, যা নেতাকে কঠিন সময়ে সাহস দেয়, চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে সক্ষম করে, আর সংকটে সুরক্ষা-বলয় তৈরি করে।
আজকে দেশের রাজনীতিতে যে অস্থিরতা, বিভাজন, অথবা নেতৃত্বের সংকট আমরা দেখি তার অন্যতম কারণই হলো—তৃণমূলের প্রকৃত শক্তিকে উপেক্ষা করার প্রবণতা। কেউ কেউ মনে করেন, তারা “বড় নেতা” হয়ে গেছেন, তাই আর লোকজনের বাড়ি-ঘরে যেতে হবে না, মানুষের কথা শুনতে হবে না, কর্মীদের সম্মান দিতে হবে না। কিন্তু রাজনীতি কখনোই একতরফা ছিল না, আর কখনোই হবে না।
তাই সফল রাজনীতির প্রথম শর্ত—তৃণমূলকে সম্মান করা, কাছে রাখা, তাদের কথা শোনা। কেননা তৃণমূল যত শক্তিশালী হবে, নেতৃত্বও তত প্রভাবশালী হবে। আর তৃণমূলকে দুর্বল করে কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে রাজনীতি করতে চাইলে সেই নেতৃত্ব টেকসই হয় না, টিকে থাকে না, মানুষের মনে জায়গা পায় না।
সুতরাং একটি কথাই বলা যায়:
রাজনীতির মাটি তৃণমূল; সেই মাটিতে দাঁড়াতে না পারলে কোনো ভবনই স্থায়ী হয় না।
আল আমিন মিলু
আহ্বায়ক
গনঅধিকার পরিষদ
সরিষাবাড়ি উপজেলা শাখা জামালপুর