
প্রদীপ চন্দ্র মম
কুষ্টিয়ার ফিলিপনগরে আজ
সূর্য ওঠেনি—
রাষ্ট্র নিজেই চোখ বেঁধে দাঁড়িয়ে,
আর রাস্তাজুড়ে ছুটে বেড়াচ্ছে আগুন।
সেই আগুনে পুড়েছে
শাহ সুফি শামীম আল জাহাঙ্গীর—
ধূপের গন্ধমাখা এক মানুষ,
তার অপরাধ একটাই—
সে মানুষ ছিল,
সে আলাদা ছিল।
আমি কবি নই আজ—
আমি ক্ষুধার হাড়ভাঙা চিৎকার,
আমি দগ্ধ শরীরের রক্তে লেখা
একটি দহনমান প্রতিবাদ!
যে হাত তাকে টেনে নামিয়েছে
বিশ্বাসের চৌকাঠ থেকে—
সে হাত ভাঙলেই চলবে না,
গুঁড়িয়ে দিতে হবে
এই ঘৃণার কারখানার প্রতিটি ইট!
যে আগুন ধর্মের নামে জ্বলে—
সে আগুন জল চেনে না,
সে আগুন ভয় চেনে না—
সে আগুন নিভবে
মানুষের জেগে ওঠা ঝড়ে,
প্রতিরোধের বিস্ফোরণে!
এটা নতুন কিছু নয়—
গোয়ালন্দের নূরাল পাগলা,
কাজিপুরের আলী পাগলা,
বাউল আব্দুল সরকার,
চিন্ময় প্রভু—
একই আগুনে পুড়ে যাওয়া নামগুলো,
একই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি।
যখন কবর খুঁড়ে লাশ
আগুনে সঁপে দেওয়া হয়েছিল,
রাষ্ট্র তখনও ঘুমিয়েছিল—
আজও ঘুমাচ্ছে।
এই ঘুম—
অপরাধের শরিকানা!
শুনে রাখো—
যারা মাজার ভাঙে,
যারা বাউলের কণ্ঠ রক্তে ডুবিয়ে দেয়,
যারা ধর্মকে ধারালো ছুরি বানায়—
তারা মানুষ নয়,
তাদের আসল পরিচয়—
ওরা মানবতার শত্রু!
তোমরা কারা?
হেফাজত? জামায়াত? চরমোনাই?
নাকি বিভেদের ফেরিওয়ালা?
নিজেদের ভেতরে হাজার টুকরো—
শিয়া, সুন্নী, কাদিয়ানী—
তবু এক হয়ে যাও
শুধু পোড়ানোর সময়,
শুধু হত্যার সময়!
এই ঐক্য—
ঐক্য নয়,
এটা সংগঠিত উন্মত্ততা,
এটা ইতিহাসের নোংরা দাগ!
আমি বলছি—
চুপ করে থাকা মানে
আগুনে তেল ঢালা।
নীরবতা মানে
খুনির পাশে দাঁড়ানো।
আজ শামীম আল জাহাঙ্গীর—
কাল তুমি,
পরশু আমি—
এই মবের খাতায়
আমরা সবাই আগাম মৃত!
তাই বলছি—
রাস্তায় নামো!
এই আগুনের বিরুদ্ধে
মানুষের মিছিল গড়ে তোলো!
সরকার, শুনে রাখো—
এটা দাবি নয়,
এটা শেষ সতর্কবার্তা:
আইন যদি আজ দাঁড়াতে না পারে,
আগুন কাল তোমার পতাকাকেও ছাই করবে!
মনে রেখো—
মবের কোনো শেষ নেই,
তার ক্ষুধা শুধু বাড়ে—
আর একদিন
তোমাকেও গিলে ফেলবে।
আমি লিখে রাখছি—
এই সময়ের নাম গণতন্ত্র নয়—
এটা মবতন্ত্রের উল্লাস!
১২/০৪/২০২৬ খ্রিঃ।