নিজস্ব প্রতিবেদক
সরিষাবাড়ী উপজেলার কাবারিয়াবাড়ী গ্রামে ব্যতিক্রমী উদ্যোগে মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলনের ইতিবাচক ফলাফল দেখা যাচ্ছে। দীর্ঘদিন মাদক সেবন ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ৬ যুবক স্বেচ্ছায় সেই পথ ত্যাগ করে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার অঙ্গীকার করেছেন।
শুক্রবার বিকেলে কাবারিয়াবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের খেলার মাঠে গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও আওনা ইউনিয়ন মাদকবিরোধী কমিটির নেতাদের উপস্থিতিতে লিখিত অঙ্গীকারনামা দেন তারা। এ সময় মাদককে চিরতরে ‘না’ বলে ঘোষণা করেন ওই ৬ যুবক।

উদ্যোগটি ঘিরে এলাকায় ইতিবাচক সাড়া সৃষ্টি হয়েছে।
অঙ্গীকারনামায় তারা উল্লেখ করেন, অতীতে তারা মাদক সেবন ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তবে এখন থেকে তারা এবং তাদের পরিবারের কেউ এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়াবেন না। ভবিষ্যতে কেউ প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করলে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে তাদের কোনো আপত্তি থাকবে না। একই সঙ্গে স্থানীয় মাদকবিরোধী মুচলেকা কমিটির সব সিদ্ধান্ত মেনে চলার অঙ্গীকার করেন তারা।
মাদক ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার শপথ নেওয়া যুবকেরা হলেন—মৃত ইয়াছিনের ছেলে সেজনু মিয়া, মৃত নছর উদ্দীনের ছেলে ফারুক হোসেন, কামরুজ্জামানের ছেলে এরশাদ সরকার, সেজনু মিয়ার ছেলে জীবন রহমান স্বাধীন, হায়েত আলীর ছেলে আল আমীন এবং মৃত ইয়াছিনের ছেলে বিদ্যুৎ। তারা সবাই কাবারিয়াবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা।
মাদকসেবী এরশাদ সরকার বলেন, “মাদক শুধু একটি জীবন নয়, একটি পরিবার ও পুরো সমাজকে ধ্বংস করে দেয়। দেরিতে হলেও আমরা আমাদের ভুল বুঝতে পেরেছি। তাই আজ শপথ নিয়েছি, আর কখনো এই পথে পা বাড়াব না। আমরা সুস্থ ও সুন্দরভাবে সমাজে বাঁচতে চাই।”
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, এ ধরনের সামাজিক উদ্যোগ মাদকাসক্তদের পুনর্বাসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে, নিজ উদ্যোগে ভুল স্বীকার করে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার প্রবণতা অন্যদেরও উৎসাহিত করবে।
আওনা ইউনিয়ন মাদকবিরোধী কমিটির সদস্য সচিব ও ইউনিয়ন যুবদলের সহ-সভাপতি আব্দুল খালেক বলেন, স্বেচ্ছায় মুচলেকা দিয়ে মাদক বর্জন করা এই ৬ যুবকের পুনর্বাসনে কমিটির পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে। তবে কেউ পুনরায় এ অপরাধে জড়িয়ে পড়লে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সামাজিক সচেতনতা ও আত্মশুদ্ধির এই উদ্যোগ কাবারিয়াবাড়ী গ্রামে নতুন বার্তা দিচ্ছে—ইচ্ছা থাকলে অন্ধকার পথ ছেড়ে আলোর পথে ফেরা সম্ভব।