
নিজস্ব প্রতিবেদক
খুব বেশি সময় পেরোয়নি। কিন্তু আমরা যেন ইচ্ছে করেই ভুলে যাচ্ছি সেই আগুনঝরা দিনগুলোর কথা—রক্তে রাঙানো জুলাই, যেখানে প্রতিটি রাস্তা ছিল প্রতিরোধের দুর্গ, আর প্রতিটি কণ্ঠ ছিল বিদ্রোহের বারুদ।
সেই জুলাই ছিল না নিছক কোনো মাস—
সেটা ছিল শাসনের বিরুদ্ধে জনতার ঘোষণা,
অন্যায়ের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ,
আর নিপীড়নের বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে দাঁড়ানোর ইতিহাস।
রাজপথ তখন গর্জে উঠেছিল—
“স্বৈরাচারের পতন চাই!”
“রক্ত দিয়েছি, রক্ত দেবো—অধিকার ছিনিয়ে নেবো!”
“ক্ষমতা না জনতা জনতা জনতা”
“গণহত্যার বিচার চাই, বিচার চাই!”
“দুর্নীতিবাজদের ঠিকানা—কারাগার,এই বাংলায় হবেনা”
“আমার ভাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে দেবো না!”
“এই লড়াই মুক্তির লড়াই, এই লড়াই বাঁচার লড়াই!”
“ভোটের অধিকার কেড়ে নিলে, আগুন জ্বলবে রাজপথে!”
“ক্ষমতা নয়, ন্যায় চাই—শোষকের পতন চাই!”
“গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ চলবে না, চলবে না!”
“যে রক্ত ঝরেছে পথে, তার হিসাব চাই রাষ্ট্রমতে!”
এই স্লোগানগুলো আর পাঁচটা শব্দের মতো ছিল না—
এগুলো ছিল বিস্ফোরণ,
এগুলো ছিল বুকের ভেতর জমে থাকা বছরের পর বছর ক্ষোভের আগ্নেয়গিরি,
যা জুলাইয়ে এসে বিস্ফোরিত হয়েছিল।
রক্তাক্ত সেই দিনগুলোতে রাজপথে নেমে এসেছিল সাধারণ মানুষ—
কেউ ছাত্র, কেউ শ্রমিক, কেউ কৃষক—
কিন্তু পরিচয় একটাই—
“আমরা জনগণ, আমরা ন্যায়ের পক্ষে”।
গুলির সামনে বুক পেতে দিয়েছিল তারা,
লাঠির আঘাতে রক্ত ঝরেছে,
তবুও থামেনি কণ্ঠ—
বরং আরও জোরে উঠেছে স্লোগান—
“এক দফা, এক দাবি—স্বৈরাচার কবে যাবি!”
“জবাব দাও, জবাব দাও—রক্তের হিসাব দাও!”
“রাজপথ ছেড়ে যাবো না—পরাজয় মানবোনা”
এই জুলাই আমাদের শিখিয়েছে—
ভয়কে জয় করতে না পারলে অধিকার পাওয়া যায় না।
নীরবতা মানে সম্মতি, আর সম্মতি মানে দাসত্ব।
আজ প্রশ্ন হলো—
সেই রক্তের দামে কেনা প্রতিবাদ,
সেই বজ্রকণ্ঠের স্লোগান—
আমরা কি তা ধরে রাখতে পেরেছি?
নাকি আমরা আবারও ভয়ে চুপ হয়ে গেছি?
নাকি সুবিধার মোহে বিকিয়ে দিয়েছি সেই লড়াইয়ের চেতনা?
রক্তঝড়া জুলাই আমাদের কাছে কোনো গল্প নয়—
এটা এক অঙ্গীকার,
এক অগ্নিশপথ—
যেখানে বলা হয়েছিল—
“অন্যায় দেখলে চুপ করে থাকবো না!”
আসুন, আবার বলি—
আরও জোরে বলি—
“এই দেশ কারো বাপের না—এই দেশ জনগণের!”
“শোষণের শিকল ভাঙবোই, ইনশাআল্লাহ!”
“জনতার জয় হবেই, হবেই!”
যাতে ভবিষ্যতের কোনো জুলাই আর রক্তে রাঙাতে না হয়,
বরং সেই জুলাই হয়ে ওঠে—
জনতার চূড়ান্ত বিজয়ের মাস।
লেখক কলামিস্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক গবেষক সরিসাবাড়ি জামালপুর