
নিজস্ব প্রতিবেদক
জ্বালানি সাশ্রয়ে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে দোকানপাট ও মার্কেট বন্ধ রাখার সরকারি নির্দেশনা মাঠপর্যায়ে কার্যত উপেক্ষিত হচ্ছে। জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, নির্ধারিত সময়ের অনেক পর পর্যন্ত আগের মতোই চলছে বেচাকেনা।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল, ২০২৬) সন্ধ্যার পর আরামনগর, শিমলা, তারাকান্দি যমুনা সার কারখানাগেটপাড় ও জগন্নাথগঞ্জ পুরাতন ঘাট এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, অধিকাংশ দোকান খোলা রয়েছে। আলোকসজ্জা, ক্রেতাদের ভিড় এবং বিক্রেতাদের ব্যস্ততায় বাজারগুলোতে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। সরকারি নির্দেশনার দৃশ্যমান কোনো প্রভাব সেখানে লক্ষ্য করা যায়নি।
স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে আগেভাগে দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হলেও, তা বাস্তবায়নে দৃশ্যমান তদারকি নেই। ব্যবসায়ীরা বলছেন, কাগজে-কলমে নির্দেশনা থাকলেও মাঠপর্যায়ে তা কার্যকর করতে কেউ এগিয়ে আসেনি।
আরামনগর ও শিমলা মার্কেটের একাধিক দোকানি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, মার্কেট মালিক সমিতির পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। ফলে তারা আগের নিয়মেই দোকান খোলা রাখছেন।
এক ব্যবসায়ী বলেন, “সরকারি নির্দেশনা থাকলে সেটি আমাদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পৌঁছাতে হবে। তা না হলে ব্যবসা বন্ধ করে ক্ষতির ঝুঁকি নেওয়া কঠিন।”
অনুসন্ধানে জানা যায়, স্থানীয় মার্কেট মালিক সমিতিগুলো এখনো এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। ফলে নিচের স্তরের ব্যবসায়ীরা দ্বিধায় পড়েছেন—নির্দেশনা মানবেন, নাকি ব্যবসা চালাবেন।
ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা সরকারের উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তবে বাস্তবতার সঙ্গে সময়ের সমন্বয় প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।
একজন চাকরিজীবী ক্রেতা বলেন, “অফিস শেষ করে বাজারে আসতে আসতেই তো ৬টা বাজে। সময়টা কিছুটা বাড়ানো হলে আমরা পরিকল্পনা করে আগে আসতে পারি।”
ব্যবসায়ীরা বলছেন, সামনে পহেলা বৈশাখ—বছরের অন্যতম বড় ব্যবসার মৌসুম। এ সময়ে দোকান আগে বন্ধ করতে হলে তাদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
তাদের দাবি, অন্তত রাত ৮টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখার অনুমতি দেওয়া হোক, যাতে জ্বালানি সাশ্রয় ও ব্যবসার মধ্যে একটি ভারসাম্য তৈরি হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় নির্দেশনাটি কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও মৌখিকভাবে নির্দেশনা দেওয়া হলেও, তা তদারকি বা প্রয়োগে দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই। ফলে ব্যবসায়ী ও ক্রেতা—উভয় পক্ষই নিজ নিজ সুবিধামতো পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ী আলহাজ মামুনুর রশীদ ফকির বলেন, শুধু নির্দেশনা দিলেই হবে না—এর কার্যকর বাস্তবায়নে প্রয়োজন সুস্পষ্ট রূপরেখা, সমন্বিত সিদ্ধান্ত এবং কঠোর মনিটরিং। অন্যথায় এমন উদ্যোগ কাগজেই সীমাবদ্ধ থেকে যাবে।