
প্রদীপ চন্দ্র মম
ধূসর আকাশের দেশে
মন আজ আনমনা—
রক্তিম দানায় জমে আছে নীরব এক বিষাদ;
দূরের কোনো অচেনা অরণ্যে হারানো হরিণীর মতো
সে ফিরে আসে না আর—
অন্ধকারের ভেতর নিঃশব্দে ঘুরে বেড়ায়।
আকাশে আজ মেঘ নেই—
যারা ছিল, তারা কবে যেন
মেঘালয়ের নীল পাহাড় পেরিয়ে
অদৃশ্য কোনো ঝড়ে মিশে গেছে;
নীল শূন্যতার বুকে এখন
দীর্ঘ এক ক্লান্তি ভেসে থাকে।
চাতক পাখিরা আর ডাকে না—
তৃষ্ণার গান শুকিয়ে গেছে বহুদিন;
ধানক্ষেতের আল ধরে শালিকেরা নীরবে হেঁটে যায়,
দোয়েলও ভুলে গেছে সন্ধ্যার ছোট্ট সুর—
বাতাসে জমে থাকে এক অচেনা স্তব্ধতা।
বিলের জলে ঢেউ ওঠে না—
শাপলার পাতা স্থির, সময়ের মতো;
কাদাজলে ভেঙে পড়ে আকাশের মলিন ছায়া—
সেখানে কোনো বক নামে না আর,
মাছরাঙার নীল ঝলকও আসে না হঠাৎ।
ঝিলের ধারে কাশবন দুলে ওঠে না—
হাওয়ার সঙ্গেও যেন তার কোনো কথা নেই;
নদীর বুক জুড়ে জমে থাকা ধূসরতা
ধীরে ধীরে মিশে যায় সন্ধ্যার গভীরে—
যেন বহুদিন কেউ হেঁটে যায়নি এ পথে।
ফসলের মাঠে নত হয়ে আছে ধান—
শীষগুলো ক্লান্ত মানুষের মতো ঝুঁকে থাকে;
কৃষকের চোখে জমে থাকা অন্ধকার
ভোরের শিশির হয়ে ঝরে না আর—
নিঃশব্দে জমে থাকে মাটিরই গভীরে।
প্রকৃতি আজ—
ভুলে যাওয়া দিনের দীর্ঘ স্মৃতি;
তার শিরায় শিরায় ধুলো, তার নিঃশ্বাসে ক্লান্তি—
তবু গভীর রাতের কোনো এক প্রহরে
একটি পাখি ডাকে খুব আস্তে।
হয়তো সে জানে—
এই ধূসরতার ভেতর দিয়েই একদিন
বৃষ্টি নামবে নিঃশব্দে;
তবু এই মন, এই বিল, এই মাঠ—
চেয়ে থাকে দূরের অন্ধকারে,
যেখানে ফিরে আসার পথও হারিয়ে যায়।
৩০/০৩/২০২৬ খ্রিঃ।