প্রদীপ চন্দ্র মম
এই সময়—
শুধু সময় নয়,
এ এক সাজানো নিষ্ঠুরতা,
মানুষের রক্তে লেখা
রাষ্ট্র নামের এক লজ্জার খসড়া।
চোরকে না পেয়ে
মা-বাবার গায়ে চোরের দাগ—
এ কেমন বিচার?
সালিশ এখন শকুনের ভোজসভা,
মানবতা সেখানে ঝুলে থাকে
রায় ঘোষণার আগেই।
একজন মা—
অপমানের ফাঁসিতে ঝুলে পড়ে,
আর আমরা বলি—
“ঘটনা দুঃখজনক।”
থানা আজ আশ্রয় নয়—
থানা আজ আক্রমণের মঞ্চ,
আইন আজ ভাঙা কাঁচের মতো—
যার ধারেই কেটে যায় ন্যায়ের মুখ।
ইউনিফর্ম আর ভয় জাগায় না,
কারণ ভয় এখন
আরও বড় কোনো ক্ষমতার দালাল।
তেলের নামে প্রতারণা—
পাম্পে শূন্যতা,
গলিতে গলিতে কালোবাজারের উৎসব।
এই দেশে অভাব নেই—
অভাব কেবল সততার।
দামের আগুনে পুড়ে যায়
ক্ষুধার্ত মানুষের শেষ আশা।
এক মুঠো চাল এখন
এক দীর্ঘশ্বাস,
এক ফোঁটা তেল এখন
এক ফোঁটা চোখের জল।
বেঁচে থাকা এখানে
প্রতিদিনের যুদ্ধ,
যেখানে শত্রু—
নিজেরই তৈরি সিস্টেম।
বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ—
ক্ষমতার দাবায় সাজানো কবরস্থান,
নিরীহ মানুষের লাশ
শুধু সংখ্যা হয়ে যায়।
মানবতা?
এখন শুধু বক্তৃতার শব্দমাত্র।
প্রভাবশালীরা—
তারা মানুষ নয়,
তারা একেকটা চলমান দুর্যোগ।
তারা লুটে নেয় স্বপ্ন,
খায় ভবিষ্যৎ,
আর ইতিহাসকে বিক্রি করে
নিজেদের সুবিধামতো সংস্করণে।
সত্য আজ নির্বাসিত,
মিথ্যা পেয়েছে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা।
কলম বিক্রি, বিবেক বন্ধক—
শব্দগুলো আর প্রতিবাদ করে না,
কেবল টিকে থাকার জন্য
নিজেকেই হত্যা করে।
চাঁদার দাবিতে
রাতের আঁধার হয় রক্তাক্ত,
বাড়ি ভাঙে, দরজা কাঁপে,
শিশুরা শিখে—
এই দেশ ভয়কে জন্ম দেয়।
মানুষ আজ মানুষ নয়—
একটি ক্লান্ত ছায়া,
যে বেঁচে থাকে
কেবল মৃত্যুর অপেক্ষায়।
কিন্তু শুনে রাখো—
এই নীরবতা চিরকাল থাকবে না।
এই জমে থাকা ক্ষোভ
একদিন আগুন হবে,
এই দমবন্ধ করা সময়
একদিন বিস্ফোরিত হবে।
আমরা আর মাথা নত করব না,
আমরা আর চুপ থাকব না—
অন্যায়ের বুক চিরে
আমরাই লিখব নতুন ইতিহাস।
কারণ—
যখন মানুষের সহ্যশক্তি ভেঙে পড়ে,
তখনই জন্ম নেয় বিপ্লব।
আর সেই বিপ্লব—
এইবার আসবে
ভয় ভেঙে, রক্ত মেখে,
সত্যের পতাকা হাতে নিয়ে।
২৭/০৩/২০২৬ খ্রিঃ।