নিজস্ব প্রতিবেদক
জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার কাওয়ামারা এলাকায় যমুনা নদীর তীরে অনুষ্ঠিত হয়েছে মহাঅষ্টমীর স্নান উৎসব। ‘সৎ সংঘ’ কাওয়ামারার আয়োজনে প্রতি বছরের মতো এবারও ভোর থেকে শত শত ভক্তের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে নদীর ঘাট। তবে আয়োজন ঘিরে ভক্তি ও ঐতিহ্যের পাশাপাশি অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা ও পৃষ্ঠপোষকতার অভাবের বিষয়টিও সামনে এসেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ভোরের আলো ফোটার আগেই বিভিন্ন এলাকা থেকে ভক্তরা নদীতীরে জড়ো হন। পরিবার-পরিজন নিয়ে কিংবা দলবদ্ধভাবে অংশ নেন তারা। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, মহাঅষ্টমীর এই স্নান আত্মশুদ্ধি ও পাপক্ষয়ের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।

তবে ভক্তদের উপস্থিতি বাড়লেও সে অনুযায়ী স্থায়ী অবকাঠামো গড়ে ওঠেনি বলে অভিযোগ রয়েছে। নদীর ঘাটে অস্থায়ী ব্যবস্থাপনার ওপরই নির্ভর করতে হচ্ছে আয়োজকদের। নিরাপত্তা নিশ্চিতে স্বেচ্ছাসেবকেরা দায়িত্ব পালন করলেও সরকারি তদারকি বা সহায়তা চোখে পড়ার মতো ছিল না বলে জানিয়েছেন কয়েকজন অংশগ্রহণকারী।
আয়োজক কমিটির নেতা রঘুনাথ পাল বলেন, “বিভিন্ন বাধা-বিপত্তি ও অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও আমরা গত ১০ বছর ধরে এই আয়োজন চালিয়ে যাচ্ছি। ভক্তদের উপস্থিতিই আমাদের অনুপ্রেরণা। তবে পর্যাপ্ত পৃষ্ঠপোষকতা পেলে আয়োজন আরও সুন্দরভাবে করা সম্ভব।”
তিনি জানান, সীমিত সম্পদের কারণে অনেক ক্ষেত্রেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয় না। স্থানীয়দের সহযোগিতার ওপরই বেশিরভাগ কার্যক্রম নির্ভরশীল।
আয়োজক সুদেব পাল বলেন, “যাঁরা দূরের তীর্থস্থানে যেতে পারেন না, তাঁদের জন্যই এই উদ্যোগ। কিন্তু প্রতি বছর ভক্ত বাড়লেও সেই তুলনায় সুযোগ-সুবিধা বাড়েনি।”
স্নানে অংশ নেওয়া কয়েকজন ভক্ত জানান, আয়োজনটি তাদের কাছে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও ঘাটের অবস্থা, স্যানিটেশন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার আরও উন্নয়ন প্রয়োজন। বিশেষ করে নারী ও বয়স্কদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা না থাকায় কিছুটা ভোগান্তির কথাও জানান তারা।
স্থানীয়দের মতে, কাওয়ামারার এই স্নান উৎসব ধীরে ধীরে একটি বড় সামাজিক মিলনমেলায় পরিণত হচ্ছে। তবে যথাযথ পরিকল্পনা, অবকাঠামো উন্নয়ন ও প্রশাসনিক সহায়তা ছাড়া এ আয়োজন ভবিষ্যতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
প্রতিবছর ভক্তদের উপস্থিতি বাড়লেও প্রশ্ন রয়ে গেছে—এই ঐতিহ্যবাহী আয়োজনকে টেকসই ও নিরাপদ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ কবে দৃশ্যমান হবে?