কামরুল হাসান: ঈদ! এটি আরবি শব্দ। যার অর্থ খুশি। শৈশবের ঈদ ছিল আর বর্তমানের ঈদ আছে। এ দুয়ের মধ্যকার তফাতটা ব্যাপক। সেই সব দিনের লক্ষ্য ছিল হাসি খুশি আর আনন্দে মেতে থাকা। ঈদির জন্যে হন্যে হয়ে ঘুরা। নাছুড় বান্দা কয় আর কারে। এতে অনেকের যে বিরক্ত। কে তা থোড়ায় কেয়ার করে। আবার কেউ বা বলে টাকা নেই। এক বা দুইটা চকলেট নে না। কিš‘ হালে হাসি খুশি থাকাটাই বড় মুশকিলের। এর যুক্তিও আছে বেশ! আগে শুধুই নিজের জন্য ভাবনা ছিল। এখন কিš‘ তা নয়। দিনে দিনে দিন গিয়েছে মেলা। দিন সময়ের সাথে টেক্কা দিয়ে চলছে। তাই সামনে আসছে নিত্য নতুন খেলা। এই খেলা সামলানো কি যে ঠেলা। এই খেলা আর ঠেলার জন্যই ঈদ কেড়ে নিয়েছে নিদ। নিত্য নতুন চাহিদা। বাড়ছে নিত্য পণ্যের দাম। হাতে নাই তেমন কাম। পেটের চামড়া বেজায় ঢিল। খুকির জামার দামের সাথে নাই টাকার মিল। বউ আমার বলেছিল অনেক আকুতি ভরা গলায় । নিতান্তই যেন একটা লাল শাড়ি কিনে দেই। অবশ্য তার চাওয়াটা দোষের ছিল না। সেই করে তাকে পছন্দের কিছু কিনে দিয়েছি তার হিসেব নেই আমার কাছে। আহারে! বেচারি কতই না কষ্ট করে। তার প্রতি দরদের কমতি নেই আমার। কিš‘ সব এলোমেলো করে দেয় এক সুতা। যা আয় আর ব্যয়ের হিসেবের খাতা সেলাই করে। আমি িিঠক পেরে উঠতে পারছিনা। হাপিয়ে উঠছি বারংবার। যারা কর্তা , তাদের কথা বলবো কি আর। তাদের ভুবন যে অন্য রকম। আশা একমাত্র মধ্য¯’তাকারী। সেও যে তলে তলে তেল মেরে তেলান। কি করবোটা বল? অতশত বুঝে কাজ নেই। আমার লাল শাড়ি আর খুকির জামা পেলেই হল। চাইনা কিছু আর। কে নিবে আমার এ চাওয়ার ভার! প্রশ্ন আমার, ঈদি না হোক। চাল ডাল তেল চিনির নামে কি যেন তা শুনি। আম জাম কড়ই কাঠ নাইবা দিলে। দাওনা একটা ফেমিলি কার্ড। বড় হলাম বুঝেও গেলাম। আমরা যারা হা-ভাতে আজ তাদের শুধু ভাগ্য বিড়ম্বনা। চাইনা কিছু । ঈদি দিবি নি। (লেখক: সংবাদ ও মানবাধিকার কর্মী, সংগঠক, কলাম ও ফিচার লেখক