
নিজস্ব প্রতিবেদক
জামালপুরের বকশীগঞ্জে সড়ক যেন এখন এক অনিয়ন্ত্রিত টোলঘর—তবে তা আইনের নয়, প্রভাবশালীদের। পৌরসভার নাম-লোগো ব্যবহার করে একটি সংঘবদ্ধ চক্র দিনের আলোতেই গাড়ি থামিয়ে জোরপূর্বক টাকা আদায় করছে। রশিদ আছে, কিন্তু আইনের ভিত্তি নেই; আছে কেবল ভয়, হুমকি আর দখলদারির প্রকাশ্য প্রদর্শন।
স্থানীয়দের ভাষায়, এটি আর ‘অভিযোগ’ নয়—একটি প্রতিষ্ঠিত ব্যবস্থা। প্রতিদিন অন্তত ৫০০ যানবাহন থেকে ৭৫ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। এই হিসাবে প্রতিদিন কয়েক দশ হাজার টাকা ওঠার কথা। কিন্তু মাঠের বাস্তবতা বলছে, আদায়ের অঙ্ক আরও বড়—মাস শেষে যা লাখ পেরিয়ে বিপুল অঙ্কে দাঁড়ায়। এই টাকার সিংহভাগ কোথায় যাচ্ছে—তা অজানা নয়, আবার প্রকাশ্যও নয়।
চালকদের অভিযোগ, টাকা না দিলে ‘নিয়ম’ একটাই—গালিগালাজ, হুমকি, তারপর মারধর। অনেক ক্ষেত্রে গাড়ির গ্লাস ভেঙে দেওয়া বা জোর করে টাকা কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ, রশিদ দিয়ে বৈধতার মুখোশ পরিয়ে চলেছে সরাসরি চাঁদাবাজি।
ট্রাকচালক আলমগীর হোসেন বলেন, “গাড়ি থামিয়ে রশিদ ধরিয়ে টাকা চায়। না দিলে গালাগাল করে। ১০০ টাকা দিলে বাকি টাকা ফেরত দেয় না। উল্টো গাড়ির গ্লাসে আঘাত করে তাড়িয়ে দেয়। কিছু বলার সাহস থাকে না।”
সবচেয়ে গুরুতর প্রশ্ন—এই ‘টোল’ আদায়ের আইনি ভিত্তি কোথায়? বকশীগঞ্জ পৌর এলাকায় কোনো নির্ধারিত বাস বা ট্রাক টার্মিনাল নেই। বিদ্যমান আইন অনুযায়ী, সড়কে দাঁড়িয়ে পৌরসভার নামে এভাবে অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি। তবু দিনের পর দিন প্রকাশ্যে এ কার্যক্রম চললেও প্রশাসনের কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেই—যা নীরব সম্মতির সন্দেহকে উসকে দিচ্ছে।
জামালপুর জেলা ট্রাক, ট্যাংকলড়ী, কভার্ডভ্যান, মিনিট্রাক ও ট্রাক্টর চালক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আ. মোত্তালেব বলেন, “এটা টোল নয়—খোলাখুলি চাঁদাবাজি। চালকদের মারধর করে টাকা আদায় করা হচ্ছে। অবিলম্বে বন্ধ না হলে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।”
তিনি হুঁশিয়ার করে বলেন, “আর একটি শ্রমিকের ওপর হামলা হলে এর দায় প্রশাসনকে নিতে হবে।”
পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটি জনিত কারণে পৌর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা যায়নি।
প্রশ্ন এখন সরাসরি—কার ছত্রচ্ছায়ায় চলছে এই ‘রশিদভিত্তিক চাঁদাবাজি’? কেন সড়ক দখল করে অবৈধ অর্থ উত্তোলন বন্ধে প্রশাসন নীরব?
উত্তর না মেলায় বকশীগঞ্জে আইনের শাসন নয়, বরং ভয়ভিত্তিক এক সমান্তরাল অর্থনীতি চালু থাকার অভিযোগই আরও জোরালো হচ্ছে।