হুমায়ুন আহমেদ,
স্টাফ রিপোর্টার, আদমদীঘি বগুড়া।
বগুড়ার সান্তাহার এলাকায় নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি লাইনচ্যুত হওয়ার কারণে উত্তরবঙ্গের সাথে দিনাজপুরের রেল যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তবে ঢাকা-রংপুর-লালমনিটরহাট লাইনে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। আজ বুধবার দুপুরের ওই দুর্ঘটনায় ট্রেনের নয়টি বগি লাইন থেকে ছিটকে পড়েছে। এতে শত শত যাত্রী আহত হয়েছে। দুপুর ২টা ৪ মিনিটের দিকে ট্রেনটি সান্তাহার স্টেশন ছেড়ে আক্কেলপুরের দিকে রওনা দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই এই দুর্ঘটনা ঘটে এবং ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে বেশ বহু যাত্রী আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বর্তমানে উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে কাজ করছে। এলাকার স্থানীয়রা বলছেন, ওই সময় সেখানে লাইনে মেরামতের কাজ চলছিল। সেজন্য লাল পতাকা টানানো ছিল এবং সিগন্যালও দেওয়া হয়েছিল। তবে ট্রেনটি সেই সিগন্যাল ‘অমান্য করে আসায়’ দুর্ঘটনা ঘটে। ওদিকে রেললাইনের দুর্বল ব্যবস্থাপনার কারণে সাধারণ মানুষের মনে এখন তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে কারণ এই রুটে ট্রেন চলাচল এখন অনেকটা ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। সংস্কারের নামে কেবল জোড়াতালি দেওয়ার ফলে রেললাইনের লোহার পাত ও স্লিপারগুলো এতটাই নড়বড়ে হয়ে পড়েছে যে যেকোনো সময় বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এই ঘটনাটি রেল প্রশাসনের উদাসীনতা ও ভঙ্গুর অবকাঠামোর এক বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছে যা উত্তরবঙ্গের মানুষের যাতায়াতকে অনিরাপদ করে তুলেছে। দুর্ঘটনার শিকার নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি ঢাকা থেকে ছেড়ে যখন সান্তাহার স্টেশনে তার সংক্ষিপ্ত বিরতি শেষ করে বুকভরা আশা নিয়ে দিনাজপুরের অভিমুখে যাত্রা শুরু করেছিল তখন ট্রেনের কয়েকশ’ যাত্রী হয়তো ঘুণাক্ষরেও ভাবেননি যে কয়েক মিনিটের ব্যবধানে তাদের নিয়তি এক অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে ছিটকে পড়বে। সান্তাহার ও আক্কেলপুর স্টেশনের মাঝামাঝি এলাকায় পৌঁছানো মাত্রই এক বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে চারপাশ আর মুহূর্তের মধ্যেই ট্রেনটির বিশালকায় ৯টি বগি রেললাইন থেকে ছিটকে পড়ে ধুলো আর মাটির সাথে মিশে যায়। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ট্রেনের ভেতর থাকা যাত্রীরা যেমন আতঙ্কে দিশেহারা হয়ে পড়েন তার চেয়েও ভয়াবহ পরিস্থিতির শিকার হন ট্রেনের ছাদে থাকা অতিরিক্ত যাত্রীরা। এসব যাত্রীদেও বেশির ভাগ মানুষ অভাব আর নিরুপায় জীবনের তাগিদে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। লাইনচ্যুতির সেই প্রচণ্ড ঝটকায় ছাদ থেকে ছিটকে পড়া মানুষরা ছাদেও যাত্রী।