নিজস্ব প্রতিবেদক
জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার পিংনা ইউনিয়নে গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে এক নারী উদ্যোক্তার বহুদিনের স্বপ্ন। বৈদ্যুতিক লাইনের ত্রুটি থেকে আগুনের সূত্রপাত বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় একটি দুধেল গাভী, একটি খাসি ছাগল, ডিমপাড়া মুরগিসহ গোয়ালঘর পুড়ে গিয়ে প্রায় তিন লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত নারী উদ্যোক্তা তাহেরা বেগম উপজেলার পিংনা ইউনিয়নের মেইয়া গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর স্বামী অসীম আলী। পরিবারটির প্রধান আয়ের উৎস ছিল গবাদিপশু ও মুরগী লালনপালন।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত প্রায় ২টার দিকে পাশের পল্টনের বৈদ্যুতিক তার থেকে হঠাৎ আগুনের স্ফুলিঙ্গ ছড়িয়ে পড়ে তাহেরা বেগমের গোয়ালঘরে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে পুরো ঘরে। এ সময় গোয়ালে থাকা তিনটি গরুর মধ্যে একটি অস্ট্রেলিয়ান জাতের গাভী আগুনে পুড়ে মারা যায়, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ২ লাখ টাকা। অপর একটি ষাঁড় গরু আংশিক দগ্ধ হয়। এছাড়া একটি খাসি ছাগল (মূল্য প্রায় ২০ হাজার টাকা) ও ১২টি ডিমপাড়া মুরগিও আগুনে পুড়ে যায়।

আগুনে পুড়ে যায় গোয়ালঘরের কাঠামো ও সরঞ্জামও। সব মিলিয়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় তিন লাখ টাকা বলে দাবি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের।
তাহেরা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “অনেক কষ্ট করে গরু-ছাগল লালন করে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছিলাম। এক রাতেই সব শেষ হয়ে গেল। আমার স্বপ্ন আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।”
তিনি অভিযোগ করেন, বৈদ্যুতিক লাইনের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার বিষয়ে একাধিকবার সংশ্লিষ্টদের জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। “তাদের অবহেলার কারণেই আজ আমি নিঃস্ব,” বলেন তিনি।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাদের দাবি, আগুন লাগার পরপরই ফায়ার সার্ভিস বা বিদ্যুৎ বিভাগকে জানানোর পরও কোনো কর্মী ঘটনাস্থলে পৌঁছেনি। এলাকাবাসীর সম্মিলিত চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়, না হলে পুরো গ্রাম বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারত।
ক্ষতিগ্রস্ত তাহেরা বেগম সরকারের কাছে জরুরি সহায়তা কামনা করেছেন। একই সঙ্গে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিভাগ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটি শুধু একটি পরিবারের ক্ষতি নয়, বরং গ্রামীণ নারী উদ্যোক্তাদের নিরাপত্তা ও টিকে থাকার প্রশ্নও নতুন করে সামনে এনে দিয়েছে। অবহেলিত অবকাঠামো আর দায়িত্বহীনতার আগুনে কত স্বপ্ন পুড়বে—এই প্রশ্ন এখন পিংনার আকাশে ভাসছে।