
নিজস্ব প্রতিবেদক
আজ ১৭ মার্চ। স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের স্থপতি, জাতির জনক ‘শেখ মুজিবুর রহমান–এর জন্মদিন। ১৯২০ সালের এই দিনে তিনি টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে তাঁর নাম অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িয়ে আছে। রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, আপসহীন নেতৃত্ব এবং বাঙালির অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তিনি হয়ে ওঠেন জাতির অবিসংবাদিত নেতা।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের দীর্ঘ পথচলায় বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা ছিল নির্ণায়ক। ভাষা আন্দোলনের চেতনা থেকে শুরু করে স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে ছয় দফা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান—প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পর্বে তিনি সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। বাঙালির রাজনৈতিক অধিকার, অর্থনৈতিক মুক্তি এবং আত্মনিয়ন্ত্রণের দাবিকে তিনি সুসংগঠিত আন্দোলনে রূপ দেন।
১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে দেওয়া তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণ বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতার চূড়ান্ত সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত করে। সেই ভাষণে তিনি ঘোষণা করেছিলেন, “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।”
পরবর্তীতে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় স্বাধীন বাংলাদেশ। সেই মুক্তিযুদ্ধের অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে ইতিহাসে চিরস্থায়ী স্থান করে নেন বঙ্গবন্ধু।
স্বাধীনতার পর তিনি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনে উদ্যোগ নেন এবং একটি অসাম্প্রদায়িক, শোষণমুক্ত ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্ন সামনে তুলে ধরেন। তাঁর রাজনৈতিক দর্শনের কেন্দ্রে ছিল মানুষের মুক্তি, গণতন্ত্র এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের আদর্শ।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ইতিহাসে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদান তাই কেবল একটি নেতৃত্বের ইতিহাস নয়; এটি বাঙালি জাতির আত্মপরিচয়, অধিকার ও মর্যাদা অর্জনের দীর্ঘ লড়াইয়ের প্রতীক। তাঁর জীবন ও সংগ্রাম আজও বাংলাদেশের রাষ্ট্রচিন্তা ও রাজনৈতিক দর্শনে গভীর প্রভাব বিস্তার করে চলেছে।