প্রিন্ট এর তারিখঃ মার্চ ১৪, ২০২৬, ৯:২০ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ মার্চ ১৪, ২০২৬, ৯:২৪ এ.এম
শবে কদরের আলোয় এ আর কামরুল ইসলাম —– কায়ছার উদ্দীন আল-মালেকী
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি :
পবিত্র ও মহিমান্বিত রজনী লাইলাতুল কদরের নূরানি আভা নিয়ে ধরাধামে আগমন ঘটেছিল এক অনন্য ব্যক্তিত্বের, যার নাম এ আর কামরুল ইসলাম। হাজার মাসের চেয়েও উত্তম সেই বরকতময় ক্ষণের পবিত্রতা যেন তাঁর জীবনদর্শন ও কর্মধারার পরতে পরতে মিশে আছে। জন্মের সেই নূরানি মুহূর্তের প্রভাব যেন তাঁর ব্যক্তিত্বে এক বিশেষ আধ্যাত্মিক দীপ্তি সৃষ্টি করেছে, যা তাঁকে সময়ের পরিক্রমায় করে তুলেছে একজন সফল ব্যবসায়ী, দূরদর্শী সমাজচিন্তক এবং মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)–এর আদর্শে উজ্জীবিত একনিষ্ঠ আশেক। চট্টগ্রামের সামাজিক, ধর্মীয় ও মানবিক কর্মকাণ্ডের অঙ্গনে আজ তিনি এক সুপরিচিত ও শ্রদ্ধেয় নাম। আধ্যাত্মিক সাধনাকে জীবনের মূলমন্ত্র হিসেবে ধারণ করে তিনি মানুষের অন্তরে ঈমানি চেতনা, মানবিক মূল্যবোধ এবং পারস্পরিক ভ্রাতৃত্বের বীজ বপনের লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেন।
এই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘মোহাম্মদীয় কাফেলা ঐক্য পরিষদ’, যেখানে প্রধান খাদেম হিসেবে তিনি সমাজে ঐক্য, ভ্রাতৃত্ব এবং সুন্নীয়ত চর্চার এক আলোকিত পরিবেশ গড়ে তুলতে সচেষ্ট রয়েছেন। তাঁর বিশ্বাস—মানুষের প্রকৃত উন্নতি কেবল বস্তুগত সমৃদ্ধির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং আত্মশুদ্ধি, আল্লাহভীতি এবং নবীপ্রেমের মধ্যেই নিহিত রয়েছে মানবজীবনের প্রকৃত সাফল্য। এই বিশ্বাস থেকেই তিনি চট্টগ্রামের খুলশী এলাকায় অবস্থিত ‘মোহাম্মদীয় খানকাহ শরীফ’-এর প্রধান খাদেম হিসেবে মানুষের আধ্যাত্মিক দিকনির্দেশনা প্রদান করছেন। খানকাহকে কেন্দ্র করে নিয়মিত জিকির-মাহফিল, মিলাদ, ধর্মীয় আলোচনা ও আত্মশুদ্ধিমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে অসংখ্য মানুষ এখানে আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও নৈতিক দিকনির্দেশনা লাভের সুযোগ পেয়ে থাকে। একইসঙ্গে তিনি ‘মোহাম্মদীয় সুন্নিয়া মাদরাসা’-এর পরিচালক হিসেবে নতুন প্রজন্মকে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলার মহান দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর প্রচেষ্টা হলো এমন এক প্রজন্ম গড়ে তোলা, যারা একদিকে হবে দ্বীনি জ্ঞানে সমৃদ্ধ, অন্যদিকে মানবিকতা, সততা ও নৈতিকতার আদর্শে উজ্জীবিত।
তাঁর কর্মময় জীবনের পরিধি কেবল আধ্যাত্মিকতা ও ধর্মীয় নেতৃত্বের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং সমাজকল্যাণ ও মানবসেবার ক্ষেত্রেও তিনি এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। ‘আমাদের আলোকিত সমাজ বাংলাদেশ’-এর চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি একটি নৈতিক ও সচেতন সমাজ গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন। শিক্ষা বিস্তার, সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি এবং মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার নানা উদ্যোগের মাধ্যমে এই সংগঠন সমাজের অন্ধকারাচ্ছন্ন প্রান্তগুলোতে আলোর বার্তা পৌঁছে দিতে সচেষ্ট, আর সেই পথচলার অন্যতম প্রেরণাদায়ক নেতৃত্ব দিচ্ছেন এ আর কামরুল ইসলাম। আন্তর্জাতিক সেবামূলক সংগঠন রোটারি ইন্টারন্যাশনালের ডেপুটি গভর্নর হিসেবে তিনি বিশ্বব্যাপী মানবসেবামূলক কর্মকাণ্ডের এক বৃহৎ নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত থেকে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করছেন। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, দারিদ্র্য বিমোচন এবং মানবিক সহায়তামূলক নানা কর্মসূচিতে তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ তাঁকে আন্তর্জাতিক মানবসেবার অঙ্গনেও এক পরিচিত মুখে পরিণত করেছে।
নিজ এলাকার মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেও তিনি সমানভাবে সচেতন ও সক্রিয়। চট্টগ্রামস্থ নাঙ্গলকোট উপজেলা সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তিনি এলাকার মানুষের কল্যাণ, শিক্ষা বিস্তার এবং সামাজিক ঐক্য প্রতিষ্ঠার বিভিন্ন উদ্যোগে অংশগ্রহণ করে চলেছেন। ব্যবসায়িক অঙ্গনেও এ আর কামরুল ইসলাম একজন সফল ও অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত। চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সদস্য হিসেবে তিনি বাণিজ্যিক মহলে সুপরিচিত এবং সম্মানিত। তাঁর ব্যবসায়িক উদ্যোগগুলো দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। তিনি ‘এ আর কে ট্রেডার্স’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন, ‘এ আর কে বিল্ডার্স’-এর প্রথম শ্রেণির ঠিকাদার হিসেবে বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে অবদান রাখছেন এবং ‘এ আর কে এগ্রো ফার্ম’-এর স্বত্বাধিকারী হিসেবে কৃষি ও কৃষিভিত্তিক উৎপাদনের মাধ্যমে দেশের কৃষি অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করার ক্ষেত্রেও ভূমিকা পালন করছেন। তাঁর এসব উদ্যোগ কেবল ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়; বরং তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্যও এক অনুপ্রেরণামূলক দৃষ্টান্ত।
ব্যক্তিত্বের দিক থেকে সততা, সাহসিকতা এবং দেশপ্রেম তাঁর চরিত্রের অলংকার। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)–এর জীবনাদর্শ—ন্যায়বিচার, দয়া, সত্যনিষ্ঠা এবং মানবপ্রেম—তিনি নিজের জীবন ও কর্মে ধারণ করার আন্তরিক চেষ্টা করে চলেছেন। সমাজের যেকোনো অন্যায়, অনিয়ম বা অসংগতির বিরুদ্ধে তিনি দৃঢ় ও সাহসী কণ্ঠে কথা বলতে দ্বিধা করেন না। শবে কদরের বরকতময় আলোকচ্ছটায় সিক্ত তাঁর এই জীবনধারা আজ বহু মানুষের জন্য এক অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে। আধ্যাত্মিক সাধনা, মানবকল্যাণ, সামাজিক নেতৃত্ব এবং উদ্যোক্তা মনোভাব—এই চারটি ধারাকে একসূত্রে গেঁথে তিনি যে কর্মময় জীবন নির্মাণ করেছেন, তা নিঃসন্দেহে আধুনিক সমাজের জন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। মানবকল্যাণ, ধর্মীয় চেতনা এবং সামাজিক ঐক্যের যে বার্তা তিনি তাঁর কর্মের মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন, তা ভবিষ্যতেও সমাজকে আলোকিত করার পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে—এটাই সকলের প্রত্যাশা।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত