নিজস্ব প্রতিবেদক
জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে সোনালী ব্যাংকের কাছে বন্ধক রাখা এবং নিলাম প্রক্রিয়াধীন প্রায় আড়াই একর জমি থেকে প্রকাশ্যে ভেকু মেশিন দিয়ে মাটি কাটার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, গত এক সপ্তাহ ধরে দিন–রাত জমি কেটে ড্রাম ট্রাকে করে মাটি চাঁন মিয়া ব্রিকস ফিল্ডে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে কয়েক দিনের মধ্যেই লাখ লাখ টাকার মাটি সরিয়ে নেওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেই।
স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রতিদিনই একাধিক ট্রাক জমি থেকে মাটি বহন করছে। ভেকু মেশিন দিয়ে গভীর করে মাটি কেটে ট্রাকে তোলা হচ্ছে। এতে জমির স্বাভাবিক গঠন নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে জমির মূল্যও কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, ঋণগ্রহীতার পরিবারের কয়েকজন সদস্য ব্যাংকের এক কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজশে এই মাটি কাটার কাজ করছেন। এতে অল্প সময়েই বিপুল পরিমাণ মাটি বিক্রি করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে দাবি এলাকাবাসীর।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সরিষাবাড়ী উপজেলার চেচিয়াবাধা গ্রামের বাসিন্দা মৃত ইদ্রিস আলী সরকার সোনালী ব্যাংকের জামালপুরের যমুনা সার কারখানা (জেএফসিএল) শাখা থেকে ঋণ নেন। ঋণের বিপরীতে তিনি কয়েকটি দাগে প্রায় ২ দশমিক ৫০ একর জমি ব্যাংকের কাছে বন্ধক রাখেন। পরে ঋণ খেলাপি হওয়ায় ব্যাংক জমিটি নিলামে বিক্রির জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে।
কিন্তু নিলাম প্রক্রিয়ায় থাকা ওই জমি থেকেই এখন প্রকাশ্যে মাটি কাটার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, মৃত ইদ্রিস আলী সরকারের বড় ছেলে রায়হান সরকারসহ কয়েকজন ব্যক্তি ভেকু মেশিন দিয়ে মাটি কেটে প্রতিদিন ট্রাকে করে অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন।
এলাকার একাধিক বাসিন্দা জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে দিন–রাত ট্রাক চলাচল করছে। এতে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে প্রকাশ্যে কথা বলতে রাজি নন অনেকেই।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ইদ্রিস আলী সরকার এলাকায় প্রভাবশালী ব্যক্তি ছিলেন। তাঁর ছেলেদেরও রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব রয়েছে। এ কারণে অনেকেই ভয়ে মুখ খুলতে চান না।
একজন বাসিন্দা বলেন,
“জমি যেহেতু ব্যাংকের কাছে বন্ধক, তাহলে প্রকাশ্যে এভাবে মাটি কাটা হচ্ছে কীভাবে? দেখার কি কেউ নেই? এ নিয়ে কথা বললেই হামলা–মামলার ভয় থাকে।”
এদিকে অভিযোগ উঠেছে, সোনালী ব্যাংকের জেএফসিএল শাখার ব্যবস্থাপক জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে সমঝোতা করেই এই মাটি কাটা হচ্ছে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।
মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে জেএফসিএল শাখার ব্যবস্থাপক জাহাঙ্গীর আলম বলেন,
“বিষয়টি জানার পর আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে মাটি কাটা নিষেধ করে এসেছি। নিষেধ অমান্য করে কেউ মাটি কাটলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ ব্যাপারে মাটিখেকো রায়হান সরকারের সাথে কথা বলার জন্য মুঠোফোনে বারবার কল করলেও তাতে তিনি সাঁড়া দেননি।
তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন—ব্যাংকের কাছে বন্ধক থাকা এবং নিলামের জন্য ঘোষিত জমি থেকে যদি প্রকাশ্যে মাটি কাটা হয়, তাহলে তা বন্ধে এখনো দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা কেন নেওয়া হলো না?