
নিজস্ব প্রতিবেদক
সবার ভাগ্যই বোধ হয় এক কালিতে লেখা হয় না। কারো ভাগ্য লেখা হয় গাঢ় কালিতে—যেখানে প্রতিটি অক্ষর স্পষ্ট, প্রতিটি পথ পরিষ্কার। আর কারো কারো ভাগ্য লেখা হয় সেই কালির শেষ আচড়ে—যেখানে অক্ষরগুলো ঝাপসা, পথগুলো অস্পষ্ট।
গ্রামের এক ছেলেও এমনই ভাবতো। তার নাম মিলু। ছোটবেলা থেকেই সে দেখতো—তার আশেপাশের অনেক মানুষের জীবন যেন সুন্দর করে সাজানো। কারো ভালো পরিবার, কারো অর্থ, কারো সম্মান। কিন্তু মিলুর জীবনটা যেন বারবার কাঁপা হাতে লেখা কোনো গল্পের মতো।
ছোটবেলাতেই বাবা-মাকে হারিয়েছে। জীবনের শুরুটাই যেন এক অসমাপ্ত বাক্যের মতো। তবুও সে থামেনি। প্রতিদিন নতুন করে জীবনকে পড়তে চেয়েছে—যেন নিজের ভাগ্যের অক্ষরগুলো একটু একটু করে বুঝে নিতে পারে।
মাঝে মাঝে সে রাতের আকাশের দিকে তাকিয়ে ভাবতো—
“হয়তো আমার ভাগ্য লেখার সময় কালির দোয়াত প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছিল। তাই আমার জীবনের অক্ষরগুলো এত মলিন, এত অস্পষ্ট।”
কিন্তু সময়ের সাথে সাথে সে একটা জিনিস বুঝতে শিখল।
ভাগ্য শুধু লেখা থাকে না—কখনো কখনো মানুষকেও নিজের কলম হাতে নিতে হয়।
একদিন সে সিদ্ধান্ত নিল—
“যদি আমার ভাগ্যের অক্ষর ঝাপসা হয়, তবে আমি নতুন করে লিখবো। আমার ঘামের কালি দিয়ে, আমার স্বপ্নের কাগজে।”
তারপর থেকেই মিলু আর ভাগ্যের অভিযোগ করেনি।
কষ্টকে সে বানালো অভিজ্ঞতা, ব্যর্থতাকে বানালো শিক্ষা, আর একাকীত্বকে বানালো নিজের শক্তি।
হয়তো সত্যিই সবার ভাগ্য এক কালিতে লেখা হয় না।
কিন্তু যাদের ভাগ্যের কালি ফুরিয়ে আসে, তারাই একদিন নিজের জীবনের নতুন কালির দোয়াত তৈরি করতে শেখে।
আর তখনই বোঝা যায়—
সবচেয়ে সুন্দর গল্পগুলো সেই মানুষদেরই, যাদের ভাগ্যের অক্ষর শুরুতে স্পষ্ট ছিল না।
লেখক গবেষক রাজনৈতিক বিশ্লেষক সরিসাবাড়ি জামালপুর