
নিজস্ব প্রতিবেদক
আমি অতীত যুগের গল্প শুনেছি, আধুনিক যুগের বাস্তবতা দেখেছি। প্রযুক্তির যুগের ছোঁয়াও পাচ্ছি। কিন্তু যত রকম গবেষণাই করি, মনে হয়—এটাই মানুষের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় প্রতারণার যুগ। এখানে মানুষের কমিটমেন্টের মূল্য দিন দিন কমে যাচ্ছে, আর স্বার্থের মূল্য বেড়ে যাচ্ছে বহুগুণ।
এক সময় মানুষ কথা দিলে সেটাই ছিল চুক্তি। কাগজে সই লাগত না, সাক্ষী লাগত না—মানুষের মুখের কথাই ছিল তার পরিচয়। কিন্তু আজকের পৃথিবীতে কথা দেওয়া খুব সহজ, আর সেই কথা রাখা খুব কঠিন। কারণ এখন সম্পর্কের ভিত্তি বিশ্বাস নয়, বরং সুবিধা।
এই যুগে প্রতারণা শুধু অর্থের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই।
মানুষ এখন প্রতারণা করে—
ভালোবাসায়,
বন্ধুত্বে,
ব্যবসায়,
এমনকি আদর্শের ক্ষেত্রেও।
প্রযুক্তি আমাদের জীবন সহজ করেছে, কিন্তু একই সঙ্গে প্রতারণাকে করেছে আরও নিখুঁত। আগে একজন প্রতারককে চিনতে সময় লাগত, এখন সে সামাজিক মাধ্যমে হাজার মানুষের বিশ্বাস অর্জন করতে পারে কয়েক দিনের মধ্যেই। আগে মিথ্যা বলতে লজ্জা লাগত, এখন মিথ্যাকে অনেক সময় “কৌশল” বলা হয়।
সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো—এই যুগে মানুষ প্রতারণা করতে করতে একসময় সেটাকেই স্বাভাবিক মনে করতে শুরু করেছে। ফলে সততা যেন এক ধরনের বোকামিতে পরিণত হচ্ছে। যে মানুষ সত্য কথা বলে, প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে, তাকে অনেক সময় মানুষ সরল বা অযোগ্য ভাবতে শুরু করে।
কিন্তু ইতিহাস বারবার প্রমাণ করেছে—
প্রতারণা সাময়িকভাবে জয়ী হতে পারে, কিন্তু স্থায়ী হতে পারে না। বিশ্বাস হারালে মানুষ সব হারায়। কারণ পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সম্পদ টাকা নয়, ক্ষমতা নয়—বিশ্বাস।
এই প্রতারণার যুগেও কিছু মানুষ আছে যারা কথা রাখে, বিশ্বাস ধরে রাখে, সম্পর্ককে সম্মান করে। তারাই এই পৃথিবীকে এখনো বাঁচিয়ে রেখেছে।
হয়তো এই যুগ প্রতারণার, কিন্তু সত্য ও সততার আলো পুরোপুরি কখনো নিভে যায় না। যতদিন একজন মানুষও সত্যকে আঁকড়ে ধরে থাকবে, ততদিন পৃথিবী পুরোপুরি প্রতারণার হাতে হার মানবে না।
লেখক গবেষক রাজনৈতিক বিশ্লেষক সরিসাবাড়ি জামালপুর