প্রদীপ চন্দ্র মম
এই দেশে সকাল হয়—
পত্রিকার পাতায় সংখ্যা হয়ে।
১২৪টি শিশুহত্যা,
৩০৮টি লাঞ্ছিত শরীর।
এগুলো খবর—
কিন্তু আসলে এগুলো
অকালেই থেমে যাওয়া
শিশুদের শ্বাস।
এক বছরে
একশো চব্বিশটি ছোট্ট কবর—
কেউ ছয় বছর বয়সের আগেই মাটির নিচে,
কারও নাম ঠিকমতো উচ্চারণ করাও শেখেনি এই পৃথিবী।
সবচেয়ে বেশি মৃত্যু
শিশিরভেজা গ্রামে—
ধানক্ষেতের পাশে
একটি শিশুর লাশ পড়ে থাকে,
কারণ ছিল
জমিজমা, বিরোধ, ক্রোধ।
কিন্তু ভয়াবহ সত্য আরও কাছে—
ঘর।
যে ঘরে শিশুরা নিশ্চিন্তে ঘুমায়,
সেই ঘরেই
৬৬ শতাংশ মৃত্যু।
কখনো বাবার হাতে,
কখনো মায়ের রাগে,
কখনো আত্মীয়ের নিষ্ঠুরতায়—
৩৮টি শিশু
নিজের বাবা-মায়ের হাতেই নিহত।
এই দেশে
ঘর মানে সবসময় আশ্রয় নয়—
অনেক সময়
ঘর মানে বিপদ।
আর ৩০৮টি শিশু—
তাদের শরীরের ওপর
নেমে এসেছে মানুষের অন্ধ লালসা।
ধর্ষণ,
ধর্ষণের চেষ্টা,
দলবদ্ধ ধর্ষণ—
এমনকি হত্যার পরও
অপমানিত হয়েছে শিশুর শরীর।
ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী—
নগরের নাম বদলায়,
কিন্তু অপরাধের মুখ
একই থাকে।
সবচেয়ে পরিচিত মুখগুলোই
সবচেয়ে ভয়ংকর—
শিক্ষক, প্রতিবেশী, আত্মীয়,
এমনকি বাবা।
বিচারের হিসাব আরও শীতল—
১২৪টি হত্যার মধ্যে
সাজা হয়েছে
মাত্র দুটি ঘটনায়।
অর্থাৎ
এই দেশে শিশুর রক্তের দাম
সংখ্যার চেয়েও কম।
তবু আমরা বলি—
এ দেশ ভবিষ্যতের দেশ।
কিন্তু যে দেশে
শিশুরাই নিরাপদ নয়,
সেখানে ভবিষ্যৎ
আসলে কোথায় দাঁড়িয়ে আছে?
একটি শিশু মারা গেলে
শুধু একটি জীবন শেষ হয় না—
পৃথিবী থেকে একটি সকাল কমে যায়,
একটি সম্ভাবনা
অন্ধকারে ডুবে যায়।
আর আমরা—
সংখ্যা গুনি,
খবর পড়ি,
তারপর
ঘুমিয়ে পড়ি।
১০/০৩/২০২৬ খ্রিঃ।