
প্রদীপ চন্দ্র মম
সন্ধ্যার ধূসর আলো নেমে আসে ধানের মাঠে—
কুয়াশা যেন ঘাসের ওপর ধীরে ধীরে জন্ম নেয়।
দূরের তালগাছগুলো দাঁড়িয়ে থাকে নিঃশব্দে,
যেন বহুদিনের ক্লান্ত মানুষের স্মৃতি।
আমি একা হাঁটি মাটির সরু পথে;
পায়ের নিচে শুকনো ঘাস ভেঙে ওঠে—
মনে হয় বহু বছরের ঘুম ভেঙে
পুরোনো সময় যেন একটু শব্দ করে উঠল।
নদীটি ধীরে বয়ে যায় অন্ধকারের দিকে—
জলের ভেতর ডুবে থাকে ধূসর আকাশ;
মনে হয় আমার সব দুঃখ
এই নদীর তলদেশে
শেওলা হয়ে জন্ম নেয়।
শালিকেরা অনেক আগেই ফিরেছে নীড়ে,
গ্রাম ডুবে গেছে সন্ধ্যার নিস্তব্ধতায়—
কেবল বটগাছের ডালে এক পেঁচা জেগে থাকে;
তার চোখে এমন এক স্থিরতা,
যেন সে পৃথিবীর বহু নিঃসঙ্গ রাত দেখেছে।
শিমুলের শুকনো ফুল পড়ে আছে মাঠে—
তাদের লাল রঙে আর আগুন নেই;
মনে হয় একদিন এই রঙই ছিল
বসন্তের প্রথম বিস্ময়।
হয়তো কোনো একদিন
আমার বুকের ভেতরও
এমনই এক বসন্ত জেগেছিল।
রাত গভীর হলে
ঘাসের ভেতর শিশির নামে—
নীরব, অদৃশ্য, ধীরে।
তখন মনে হয়
মানুষের দুঃখও এই শিশিরের মতো—
অন্ধকারে জন্ম নেয়,
আর ভোরের আলো এলে
নিঃশব্দে হারিয়ে যায় পৃথিবীর ঘাসে।
০৭/০৩/২০২৬ খ্রিঃ।