প্রদীপ চন্দ্র মম
ধূলির ভোরে মানুষ জাগে, একা সে অসম্পূর্ণ,
বিধাতা বললেন—নারীর ছোঁয়া হবে পূর্ণ।
মায়ের কোলে কোমল, নদীর মতো উদার,
পৃথিবীর মতো সহিষ্ণু—জীবনের চারপাশ।
তবু আজ সেই জননী লাঞ্ছিত পথে,
মানুষের লালসায় নিলামে ওঠে।
কিছু বেগানা পুরুষ—ধর্মে লুকায় ক্ষুধা,
ফতোয়ার খাঁচায় নারীর কণ্ঠ বাঁধা হয় তারা।
কোরআন বলে—এক প্রাণ থেকে সৃষ্টি দুই,
সঙ্গিনী সমান, এক জীবনের ছাঁই।
গীতা বলে—নারী সম্মান পেলে দেবতার বাস,
বুদ্ধ বলেন—জ্ঞান মুক্তি নারীরও সমান।
বাইবেল বলে—ঈশ্বর গড়েন প্রতিচ্ছবি দুই,
পুরুষ ও নারী—দু’জনেই তার ছায়া।
তাহলে বলো—ঈশ্বরের ছায়া অপমানের খেলা,
ধর্ম কি ক্ষুধার খোঁপায় মানুষের খেলা?
আমি দেখি—ধর্ম ব্যবসায়ী চোখে পর্দা টেনে,
নারীর কণ্ঠ রোধ করে, ক্ষমতার খাচা বানিয়ে।
মসজিদ, মন্দির, গির্জা—ভেতরে বসে তারা,
মানুষকে শেখায় অন্ধকারে চলার ধারা।
ইতিহাস জানে—মায়ের কোলে জন্ম,
না হলে নবী, ঋষি, বুদ্ধও হতেন অন্ধ।
নারী ভোগ্য নয়—প্রথম বিদ্যালয়, প্রথম আলো,
প্রথম ভাষা, মানবতারই প্রাণের পাল্লা।
যেদিন পুরুষ বুঝবে—নারী শরীর নয়,
অর্ধেক আত্মা, জীবনের জয়।
সেদিন আর ধর্ষণের খবর থাকবে না,
মানুষ হওয়ার ইতিহাসে জ্বলবে আলো।
সব ধর্মগ্রন্থ এক কণ্ঠে বলবে—
মানুষ, এবার সত্যিই তুমি মানুষ হলে।
০৮/০৩/২০২৬ খ্রিঃ।