কামরুল হাসান:
জাতীয় পতাকা একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশের প্রতীক বা চিহ্ন। যা সংশ্লিষ্ট দেশের পরিচয় বহন করে থাকে। বিশেষ করে বিশ^ দরবারে ওই দেশেটির পরিচয় তুলে ধরে। এ পতাকা কিš‘ এমনি এমনি আসে না। অবশ্যই ছিনিয়ে আনতে হয়। আর তা আনতে হলে অনেক বাধা বিপত্তির সম্মুখীনও হতে হয়। অনেক ত্যাগ আর তিতিক্ষার বিনিময়ে অবশেষে আসে কাঙ্খিত সেই পতাকা নামের পরম ধন। কিš‘ আমরা যারা সাধারন জনগন তারা এর মানে বুঝিনা। নূন্যতম গুরুত্বও বুঝিনা। এমন কি বুঝতেও চাই না। তাই তো অনায়াসেই এ জাতীয় পতাকার অসম্মান করি। পাশাপাশি অবমাননাও করি ঢের। দুঃখের বিষয় এই, বিভিন্ন জাতীয় দিবসগুলোতে এর সঠিক ব্যবহার তো হয়ই না। বরং উল্টো এর অবমাননা তথা অসম্মান করি। আরো করি চরম অবহেলা আর অযত্ন। বিশেষ করে সমাজে অপেক্ষাকৃত অনেক বুঝদার বা শিক্ষিত তথা জ্ঞানী ও গুণী রয়েছেন। তাদের মধ্যেও কেমন যেন উদাসীন ভাব লক্ষ্য করা যা”েছ। সর্বোপরি তাদের দ্বারাই জাতীয় পতাকা যথেষ্ট অসম্মানিত ও অবমাননিত আর অবহেলিতের ঘটনা ঘটছে বারং বার। উদাহরণ স্বরূপ উল্লেখ করা যেতে পারে- এই তো গেল ১৬ ডিসেম্বর- মহান বিজয় দিবসের দিন জামালপুর সদরের দিগপাইত উপ-শহরের আশেপাশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধ্ব:নমিত করে উত্তোলন করে। এছাড়া গত ৩০ ডিসেম্বর-০১ জানুয়ারি সাবেক প্রধান মন্ত্রীর মৃত্যুতে সরকার ঘোষিত রাষ্ট্রীয় শোক দিবসে একই ইউনিয়নের ছোনটিয়া বাজার¯’ একটি রাজনৈতিক দলীয় কার্যালয়ের এক খুঁটিতেই উপরে জাতীয় পতাকা ফুল আর তার নিচে কালো পতাকা বেধে উত্তোলন করে, অপর দিকে ২১ ফেব্রুয়ারি মহান আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবসে দিগপাইত শামছুল হক ডিগ্রি কলেজ এক খুঁটিতেই আগে কালো পতাকা অর্ধ্বঃনমিত তার নিচেই জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে, দিগপাইত ধরণী কান্ত বহুমুখী উ”চ বিদ্যালয়ে এক খুঁটিতে জাতীয় পতাকা অর্ধ্বঃনমিত আর অপর খুঁটিতে কালো পতাকা উপরে (জাতীয় পতাকার চেয়ে উপরের লেবেলে) জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। এছাড়া এসএসএস এবং আরডিএস এনজিও জাতীয় পতাকা ফুল আর ডাচ বাংলা ব্যাংক পিএলসি জাতীয় পতাকা ফুল উত্তোলন করে। এভাবেই জাতীয় পতাকা অবমানিত তথা অসম্মানিত হয়েছে। জাতীয় পতাকাকে আরো করেছে চরম অবহেলা আর অযত্ন। (লেখক: কামরুল হাসান, #০১৯১৪-৭৩৫৮৪২# সংবাদ ও মানবাধিকার কর্মী এবং ফিচার ও কলাম লেখক)।