প্রদীপ চন্দ্র মম
গ্রাম-গঞ্জের মাঠে এখন শতাংশেরই ধান,
শ্রমিক ঘামে ভিজে থাকে—শুকায় তার প্রাণ।
দুই কোটির রোদ নেমে এলো গ্রাম জুড়াতে তরে,
সূর্য ওঠার আগেই তা মেঘে গেল ঝরে।
শত টাকার দেহ কেটে নেয় চল্লিশেরই দাগ,
অবশিষ্টে গড়তে হবে ভাঙা স্বপ্নের ভাগ।
কাগজ ভরা মজবুত রাস্তা—ছবিতে ঝলমল,
মাঠে গিয়ে দেখি শুধু ধুলোর উড়ন্ত দল।
অফিস খরচ, চায়ের বিল—কত নামে দায়,
গরিব মানুষের প্রাপ্য রুটি সংখ্যাতে হারায়।
ইটের গায়ে সিমেন্ট কম, বালু উড়ে যায়,
তবু নাকি “কাজ সম্পন্ন”—খাতায় লেখা হয়!
হে হিসেবের মহারথী, কেমন তোমার শপথ?
ক্ষুধার মুখে কেটে নাও উন্নয়নের রথ!
শতকরা নয়—মানুষ চায় পূর্ণ ভাতের ভাগ,
ক্ষুধার কাছে ভেঙে পড়ে তোমার অঙ্কের ফাঁদ।
একদিন এই জমিন জাগে আগুন হয়ে রাত,
চল্লিশ ভাগ গিলে খাওয়া হবে শতের প্রভাত।
জনতারই কণ্ঠ উঠবে বজ্রের মতো ধ্বনি—
“পূর্ণ অধিকার চাই”—এই আমাদের বাণী।
সেদিন কাগজ-রাস্তা পুড়ে সত্য হবে স্থির,
ঘামে ভেজা শ্রমিক হাসে—দৃঢ় হবে ভিত্তির।
সরিষাবাড়ীর মাঠে আবার ধান উঠিবে গান,
শতাংশের কারবারির হারাবে সম্মান।
০৪/০৩/২০২৬ খ্রিঃ।