
প্রদীপ চন্দ্র মম
ভোটের কালি মুছে যায় না—
আঙুল ধুয়ে ফেলা যায়,
সময়ের দাগ নয়।
কেউ লাইনে দাঁড়ায়,
কেউ লাইনের ছায়ায় থাকে,
কেউ লাইনের বাইরে দাঁড়িয়ে
নিজের নাম খুঁজে ফেরে।
এই শহরে পোস্টার ঝরে
মৃত প্রতিশ্রুতির চামড়ার মতো—
নাম ঝোলে, মুখ ঝোলে,
দায় ঝোলে না।
মাইকের শব্দে ভোর ঘোষণা হয়,
ভোর আসে না;
শ্বাস নেওয়ার অনুমতি জারি হয়,
শ্বাসের ইতিহাস লেখা হয় না।
একদল বলে—
আলো এসেছে।
আরেকদল দেখে—
আলো আসার আগেই অন্ধকার
সরকারি সিল পেয়ে গেছে।
কেউ পিতার নাম ধরে দাঁড়ায়,
কেউ নাগরিকের নাম ধরে বাঁচে,
কেউ দুয়ের মাঝখানে
কুয়াশার মতো ভেসে থাকে।
এই মাটিতে একদিন
বর্ণমালা উঠেছিল রক্তের ভেতর থেকে;
একটি ভাষা দাঁড়িয়েছিল
বন্দুকের সামনে;
একটি মানচিত্র জেগেছিল
ধানক্ষেতের ভোরে।
আজ সেই ভোর
ক্যালেন্ডারের পাতায় আটক—
তারিখ বদলায়,
ভোর নড়ে না।
কেউ ভোট দেয়,
কেউ দেয় না—
তবু আঙুলে কালি লাগে।
কারণ কালি শুধু কেন্দ্রে নয়,
বিবেকেও পড়ে।
স্বাক্ষর হয়,
স্বাক্ষর বাতিল হয়,
তবু অস্বীকৃতির জায়গায়
অদৃশ্য সই জমে থাকে।
মোড়ে মোড়ে ব্যানার—
শব্দ মরে, স্লোগান বাঁচে।
মানুষ হাঁটে—
চোখে ভোরের বদলে
পর্যবেক্ষণের আলো।
কেউ ভিড়ে,
কেউ ভিড়ের বাইরে,
কেউ ভিড়ের ভেতর অনুপস্থিতি হয়ে।
দূরে শালিক ডাকে—
সে জানে না প্রতীক,
জানে না নির্বাচন,
জানে না ক্যালেন্ডার;
সে শুধু জানে
মাটির নিচে বহু কণ্ঠ ঘুমায়
যাদের কোনো কেন্দ্র ছিল না।
কেউ তাদের জাগায় না—
কারণ জেগে উঠলে
প্রশ্ন করবে:
কোন পাশে দাঁড়ানো?
পক্ষের পাশে স্মৃতি থাকে না,
স্মৃতির পাশে পক্ষ থাকে না—
এই দ্বৈততার ভেতরেই
রাষ্ট্রের ছায়া লম্বা হয়।
নদী বয়ে যায়—
সে জানে না সীমানা।
মানুষ সীমানা জানে—
তবু কোথায় দাঁড়িয়ে
তা জানে না।
কাগজে নাম থাকে,
মাটিতে পদচিহ্ন থাকে,
ইতিহাসে থাকে
নীরব আঙুলের অদৃশ্য রেখা।
কেউ ভোট দেয়নি—
তবু কালি লেগেছে।
কেউ স্বাক্ষর করেনি—
তবু দাগ থেকে গেছে।
কারণ কখনো কখনো
রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় দলিল
লিখিত নয়—
অস্বীকৃত মানুষের নিঃশব্দ উপস্থিতি।
১৯/০২/২০২৬ খ্রিঃ।