
নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম শক্তি আমাদের প্রবাসীরা। মধ্যপ্রাচ্য থেকে ইউরোপ, মালয়েশিয়া থেকে আমেরিকা—বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা লাখো শ্রমিক তাদের ঘাম ঝরানো পরিশ্রম দিয়ে দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ সচল রেখেছেন। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা ও কর্মসংস্থানের জন্য কাজ করে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।
কিন্তু প্রশ্ন হলো—এই দায়িত্ব কতটা কার্যকরভাবে পালন হচ্ছে?
প্রবাসীরা শুধু বৈদেশিক মুদ্রা পাঠান না; তারা দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার অন্যতম স্তম্ভ। গ্রামবাংলার অগণিত পরিবার আজ প্রবাসী আয়ের উপর নির্ভরশীল। তাই বিদেশে যাওয়ার আগে সঠিক প্রশিক্ষণ, নিরাপদ অভিবাসন প্রক্রিয়া, দালালমুক্ত ব্যবস্থা এবং বিদেশে আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব।
অনেক সময় দেখা যায়—ভিসা জটিলতা, বেতন বঞ্চনা, নির্যাতন কিংবা দুর্ঘটনার শিকার হয়ে প্রবাসীরা অসহায় হয়ে পড়েন। এমন পরিস্থিতিতে দূতাবাসের দ্রুত পদক্ষেপ, ক্ষতিপূরণ প্রদান, মরদেহ দেশে আনা এবং পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। প্রবাসী কল্যাণ তহবিলকে আরও শক্তিশালী ও স্বচ্ছ করা প্রয়োজন।
এছাড়া দক্ষতা উন্নয়ন এখন সময়ের দাবি। বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে আমাদের কর্মীদের ভাষা দক্ষতা, কারিগরি জ্ঞান ও প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ বাড়াতে হবে। দক্ষ কর্মী মানেই বেশি বেতন, বেশি সম্মান এবং দেশের জন্য বেশি রেমিট্যান্স।
আমাদের অঙ্গীকার হওয়া উচিত—
দালালমুক্ত নিরাপদ অভিবাসন
প্রবাসীদের জন্য আইনি ও সামাজিক সুরক্ষা
স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক কল্যাণ তহবিল
দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে কার্যকর উদ্যোগ
প্রবাসীরা দেশের গর্ব। তাদের কষ্টের উপার্জনেই গ্রাম জেগে ওঠে, অর্থনীতি সচল থাকে, স্বপ্ন বাঁচে। তাই রাষ্ট্রের প্রতিটি নীতিতে প্রবাসীর সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হোক—এই হোক আমাদের প্রতিজ্ঞা। 🇧🇩
আল আমিন মিলু
রাজনৈতিক বিশ্লেষক গবেষক লেখক এবং
আহ্বায়ক গনঅধিকার পরিষদ
সরিষাবাড়ি উপজেলা শাখা জামালপুর