
মুফতি মাওলানা শামীম আহমেদ পাবনা জেলা প্রতিনিধি :
রমজান মুসলমানের জীবনে রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস। এ মাস শুধু সংযমের নয়, বরং আত্মশুদ্ধি, তাকওয়া অর্জন এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক অনন্য সুযোগ। তাই রমজান আগমনের আগেই প্রয়োজন সঠিক মানসিক, আধ্যাত্মিক ও দৈনন্দিন প্রস্তুতি।
নিয়ত ও মানসিক প্রস্তুতি
রমজানের মূল শিক্ষা হলো তাকওয়া। এজন্য প্রথমেই দরকার খাঁটি নিয়ত—“আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য রোজা রাখবো, নিজেকে গুনাহ থেকে বাঁচাবো।” মানসিকভাবে প্রস্তুত হলে ইবাদতে মনোযোগ সহজ হয়।
তওবা ও আত্মসমালোচনা
রমজানের আগে নিজের অতীতের ভুল-ত্রুটি নিয়ে ভাবা জরুরি। আন্তরিক তওবা করে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া এবং গুনাহ থেকে ফিরে আসার দৃঢ় অঙ্গীকার করা এ মাসের শ্রেষ্ঠ সূচনা।
ইবাদতের পরিকল্পনা
রমজানে ইবাদতের পরিমাণ ও গুণগত মান বাড়ানো উচিত। যেমন:
দৈনিক কুরআন তিলাওয়াতের নির্দিষ্ট সময় ঠিক করা
পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতে আদায়ের চেষ্টা
তাহাজ্জুদ ও তারাবির প্রতি যত্ন
জিকির, দোয়া ও ইস্তিগফারে নিয়মিত থাকা
দৈনন্দিন রুটিন গুছিয়ে নেওয়া
ঘুম, কাজ ও ইবাদতের ভারসাম্য রক্ষা করতে আগেই রুটিন সাজানো দরকার। অপ্রয়োজনীয় ব্যস্ততা ও সময় অপচয় কমালে রমজানের বরকত বেশি অনুভব করা যায়।
খাদ্যাভ্যাসে সংযম
রমজান সংযমের মাস, ভোজনের নয়। ইফতার ও সেহরিতে অপচয় ও অতিভোজন পরিহার করে পরিমিত ও স্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণ করা উচিত।
দান-সদকার প্রস্তুতি
রমজানে দান-সদকার সওয়াব বহুগুণ। আগেই যাকাত, সদকা ও অসহায়দের সহায়তার পরিকল্পনা করলে দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা সহজ হয়।
সম্পর্ক ও চরিত্র শুদ্ধি
অভিমান, রাগ, হিংসা দূর করে আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীর সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তোলা রমজানের অন্যতম শিক্ষা। উত্তম চরিত্রই রোজার প্রকৃত সৌন্দর্য।
উপসংহার
রমজান হলো জীবন বদলের মাস। সঠিক প্রস্তুতি নিলে এ মাস আমাদের হৃদয়কে আলোকিত করে, আমলকে পরিশুদ্ধ করে এবং আল্লাহর রহমতের দ্বার উন্মুক্ত করে। আসুন, আমরা সবাই রমজানকে স্বাগত জানাই তওবা, তাকওয়া ও ইবাদতের পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে পবিত্র মাহে রমজানের যথাযথ মর্যাদা রক্ষা করার তাওফিক দান করুন। আমিন।