নিজস্ব প্রতিবেদক
শপথ অনুষ্ঠান কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি দায়িত্ব, জবাবদিহিতা এবং নৈতিক প্রতিশ্রুতির এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। যারা জনগণের ভোটে বা আস্থায় নেতৃত্বের আসনে বসেন, তাদের শপথ শুধু সংবিধানের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ নয়—বরং একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের অঙ্গীকার। আজকের শপথ যদি সত্যিকার অর্থে অর্থবহ করতে চাই, তবে তা হতে হবে ন্যায়, সমতা এবং মানবিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে।
ন্যায়ভিত্তিক সমাজ মানে এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা, যেখানে আইনের শাসন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হবে। ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি, বৈষম্য ও স্বজনপ্রীতি থাকবে না। সমাজের প্রতিটি স্তরে—রাজনীতি, প্রশাসন, বিচারব্যবস্থা এবং অর্থনীতিতে—স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। শপথ গ্রহণকারী ব্যক্তিদের প্রথম দায়িত্ব হবে জনগণের আস্থা রক্ষা করা এবং ক্ষমতাকে ব্যক্তিস্বার্থে নয়, জনকল্যাণে ব্যবহার করা।
একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের জন্য তিনটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ:
প্রথমত, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা।
আইনের চোখে সবাই সমান—এই নীতি বাস্তবায়ন না হলে সমাজে ন্যায় প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। দুর্বল ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষা করা নেতৃত্বের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।
দ্বিতীয়ত, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সমতা।
ধনী-গরিব বৈষম্য কমানো, শিক্ষার সমান সুযোগ, স্বাস্থ্যসেবার প্রাপ্যতা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি—এসব ন্যায়ভিত্তিক সমাজের অপরিহার্য উপাদান। উন্নয়ন তখনই অর্থবহ হবে, যখন তা সবার জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।
তৃতীয়ত, নৈতিক নেতৃত্ব ও জবাবদিহিতা।
শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নই নেতৃত্বের আসল পরীক্ষা। জনগণের কাছে জবাবদিহি থাকলে ক্ষমতার অপব্যবহার কমে এবং আস্থা বৃদ্ধি পায়।
আজকের শপথ অনুষ্ঠানে তাই উচ্চারণ হোক—আমরা অন্যায়, দুর্নীতি ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেবো। আমরা এমন একটি সমাজ গড়বো, যেখানে সত্য ও ন্যায় হবে উন্নয়নের প্রধান ভিত্তি।
ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠন একদিনে সম্ভব নয়, কিন্তু শপথের সেই প্রতিজ্ঞা যদি হৃদয়ে ধারণ করা যায়, তবে পরিবর্তনের পথ সুগম হবে। শপথ হোক কেবল মুখের বুলি নয়, বরং প্রতিটি সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ডের চালিকাশক্তি।
আজকের অঙ্গীকারই হোক আগামীর ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র নির্মাণের ভিত্তি।
আল আমিন মিলু
রাজনৈতিক বিশ্লেষক গবেষক এবং
আহ্বায়ক গনঅধিকার পরিষদ
সরিষাবাড়ি উপজেলা শাখা জামালপুর