প্রদীপ চন্দ্র মম
এ ফল কেবল প্রাপ্তি নয়—
ধুলোমাখা পথের পাশে শুয়ে থাকা
এক দীর্ঘদিনের ভোরের মতো;
যেখানে মানুষের চোখের জল
শালিকের ডানায় লেগে থাকা শিশির,
আর হাসির আলো
ধানক্ষেতে নেমে আসা রোদ হয়ে
একই মালায় গাঁথা হয়ে
নীরবে জমেছে আপনার দু’হাতে।
আপনি যত গ্রহণ করেছেন,
তার চেয়েও গভীর নদী লিখে গেছে
মানুষের নীরব বিশ্বাস—
সে ঋণ মুদ্রার ভাষা জানে না,
রৌদ্র-ছায়ার পাল্লায়ও ওঠে না;
শুধু কুয়াশা ভেজা ভোরে
নদীর মতো বয়ে যায়
মমতার দীর্ঘ স্রোত হয়ে,
শোধ হয় বারবার
আলোর ভেতর দিয়ে অন্ধকার পেরিয়ে।
জনগণ যে ধন তুলে দিয়েছে আপনার কাঁধে,
তা কোনো রত্নের দীপ্তি নয়—
এ যেন শীতের শেষে
ব্রহ্মপুত্রের বুকে উঠে আসা রোদ,
অথবা সন্ধ্যার মাঠে
জোনাকির নীরব সমাবেশ;
সূর্যের হৃদয় থেকে ছিটকে পড়া
এক ফোঁটা উজ্জ্বল অমৃত,
যুগযুগান্তরের প্রার্থনায় সঞ্চিত
অমল এক আস্থা।
চারপাশে আগাছা জন্মাবে—
জলমগ্ন চর যেমন হঠাৎ ভেসে ওঠে,
সন্দেহের ধুলো উঠবে
ঝড়ের আগে পাখিদের ডানার মতো;
ক্ষুদ্র স্বার্থের মেঘ
মাঝে মাঝে আকাশ ঢেকে দেবে—
তবু এই ধন
নদীর তলদেশের কাদার মতো
অদৃশ্য থেকে যাবে, অক্ষয়;
একটি কণাও যেন না হারায়
অসতর্কতার অন্ধকারে।
এই প্রার্থনা
পদ্মপাতায় জমে থাকা জলের মতো
জনপদের প্রতিটি নিঃশ্বাসে কাঁপে।
মানুষ অপেক্ষা করছে—
সময় মেপে নয়,
বর্ষার শেষে শুকিয়ে যাওয়া খালের মতো
এক অনন্ত ভোরের প্রতীক্ষায়;
যেখানে আপনার হাত ধরে
মেঠোপথে আবার শিশির পড়বে,
বটতলার ছায়ায়
পাখিরা ফিরে আসবে সন্ধ্যার আগে,
আর প্রতিটি উঠোনে
নতুন দিনের খবর
রোদ হয়ে নেমে পড়বে।
জামালপুরের মাটি,
বালুচরে ঘুমিয়ে থাকা নদী,
অপরাহ্নের আকাশে ভাসমান নীল—
সবাই যেন নীরবে বলে,
“এই আস্থা, এই ভালোবাসা
রক্ষা করুন আলো দিয়ে;
অন্ধকারের ভেতর দিয়েই
আলো জন্ম নেয় আবার।
কারণ এ জনপদ
শিশিরভেজা ঘাসের মতো স্থির হয়ে
আরেকটি সূর্যোদয়ের জন্য
আপনার দিকেই তাকিয়ে আছে—
নদীর মতো দীর্ঘ,
আকাশের মতো ধৈর্য নিয়ে।”
১৩/০২/২০২৬ খ্রিঃ।