নিজস্ব প্রতিবেদক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার আওনা ইউনিয়নে সনাতনী (হিন্দু) সম্প্রদায়ের ভোটারদের অংশগ্রহণ ও প্রত্যাশা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, নানা শঙ্কা ও প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও এ ইউনিয়নের অধিকাংশ সনাতনী ভোটার বিএনপির প্রার্থী ফরিদুল কবীর তালুকদার শামীমের ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়েছেন—এমন দাবি করছেন তাঁদের প্রতিনিধিরা। এখন তাঁদের প্রত্যাশা, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন হবে।
আওনা ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ দফাদার গোকুল চন্দ্র বলেন, সম্প্রতি জগন্নাথগঞ্জ ঘাটে অনুষ্ঠিত এক জনসভায় তাঁদের আমন্ত্রণ জানিয়ে বিভিন্ন সমস্যা শোনেন জামালপুর জেলা বিএনপি'র সভাপতি কবীর তালুকদার শামীম। সেখানে নিরাপত্তা, জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধ এবং সামাজিক সুরক্ষার বিষয়ে কিছু প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
“আমরা আওনা ইউনিয়নের সনাতনীরা নানা বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে আপনাকে ভোট দিয়েছি। আমাদের বিশ্বাস, আপনার বিজয় সুনিশ্চিত। আমরা দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি, নিজেদেরকে অভিভাবকহীন মনে করি,” বলেন গোকুল চন্দ্র।
স্থানীয় কয়েকজন সনাতনী বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাঁদের প্রধান উদ্বেগ নিরাপত্তা ও সম্পত্তি সুরক্ষা। তাঁদের অভিযোগ, অতীতের বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জমি দখল, চাঁদা দাবি ও মারধরের মতো ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রতিকার চান তাঁরা।
এদিকে অনুসন্ধানে জানা গেছে, সরিষাবাড়ী আসনে ফরিদুল কবীর তালুকদার শামীমের বিজয়ের সম্ভাবনা নিয়ে স্থানীয়ভাবে আলোচনা চলছে। এ পরিস্থিতিতে কিছু এলাকায় জমি ও সম্পত্তি নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হচ্ছে—এমন আশঙ্কার কথাও বলছেন অনেকে।
স্থানীয়ভাবে আলোচিত একটি ঘটনার প্রসঙ্গে কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেন, সাংবাদিক ও কবি প্রদীপ চন্দ্র মম-এর জমি ও বাড়িঘর দখলের চেষ্টার পায়তারা চলছে। তাঁদের দাবি, ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে একদল ব্যক্তি তাঁকে ঘিরে উত্তেজনা সৃষ্টি করে হামলার চেষ্টা চালায়। এ ঘটনায় নুরুজ্জামান তালুকদার বাবুর নাম স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচিত-সমালোচিত।
মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, নির্বাচনের সময় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও প্রশাসনের দায়িত্ব। ভোটের পর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং সম্পত্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে আস্থার সংকট তৈরি হতে পারে।
এ বিষয়ে ফরিদুল কবীর তালুকদার শামীমের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। তবে তাঁর ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানায়, নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর এলাকার উন্নয়ন, সংখ্যালঘু নিরাপত্তা ও সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষায় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এখন অপেক্ষা—নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি কত দ্রুত বাস্তবে রূপ পায়, আর সনাতনী ভোটারদের নিরাপত্তা ও অধিকার কতটা নিশ্চিত হয়। সরিষাবাড়ীর আওনা ইউনিয়নের মানুষ চাইছেন, বিজয়ের পরও তাঁদের কথা যেন শোনা হয়।