নিজস্ব প্রতিবেদক
এবারের নির্বাচন সমীকরণ মেলানোটা সত্যিই সহজ হচ্ছে না। মাঠে-ময়দানে প্রচারণা যতই জোরদার হোক, ভোটারদের মনোভাব যেন এক রহস্যময় সমীকরণ। আগের মতো একমুখী ভোট প্রবণতা নেই, দলীয় আবেগে ভেসে যাওয়ার প্রবণতাও কমেছে। বরং ভোটাররা এখন অনেক বেশি সচেতন, হিসেবি এবং নিজেদের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান নিতে প্রস্তুত।
১. দল নয়, ব্যক্তি ইমেজ গুরুত্বপূর্ণ
বর্তমান প্রেক্ষাপটে দলীয় প্রতীকের চেয়ে প্রার্থীর ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠেছে। এলাকার সঙ্গে সংযোগ, ব্যক্তিগত আচরণ, সততা ও পূর্বের কর্মকাণ্ড—এসব বিষয় ভোটাররা গভীরভাবে বিবেচনা করছেন। ফলে কেবল দলীয় শক্তির ওপর নির্ভর করে জয় নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
২. নীরব ভোটারদের রহস্য
মাঠে প্রকাশ্যে সমর্থন দেখালেও অনেক ভোটার তাদের প্রকৃত সিদ্ধান্ত গোপন রাখছেন। সামাজিক মাধ্যমে মত প্রকাশ, চায়ের দোকানের আড্ডা কিংবা ব্যক্তিগত আলাপে একরকম ইঙ্গিত দিলেও ভোটকেন্দ্রে গিয়ে সিদ্ধান্ত ভিন্ন হতে পারে। এই “নীরব ভোটার” শ্রেণি প্রার্থীদের জন্য বড় অনিশ্চয়তার কারণ।
৩. উন্নয়ন বনাম প্রত্যাশার দ্বন্দ্ব
ভোটাররা উন্নয়নের দৃশ্যমান কাজ দেখতে চান, তবে শুধু সড়ক-ঘাট নয়—চাকরি, স্বাস্থ্যসেবা, ন্যায্যমূল্য, সুশাসন—এসব বিষয়েও জবাবদিহিতা চান। উন্নয়ন হয়েছে কি না, তার চেয়ে বড় প্রশ্ন হচ্ছে—সেই উন্নয়ন কার উপকারে এসেছে? এই সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ ভোটারদের সিদ্ধান্তকে জটিল করে তুলছে।
৪. তরুণ ভোটারদের প্রভাব
তরুণ প্রজন্ম এখন বড় ভোটব্যাংক। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমনির্ভর, দ্রুত তথ্য যাচাই করে এবং আবেগের চেয়ে যুক্তিকে গুরুত্ব দেয়। ফলে পুরনো কৌশল বা প্রচলিত প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাদের মন জয় করা কঠিন।
৫. স্থানীয় ইস্যু বনাম জাতীয় রাজনীতি
জাতীয় ইস্যু যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি স্থানীয় সমস্যা—রাস্তা, ড্রেনেজ, হাসপাতাল, কৃষি সহায়তা—এসবও সমান গুরুত্ব পাচ্ছে। ভোটাররা এখন দুই স্তরের ইস্যুকে একসাথে বিবেচনা করছেন। এই দ্বৈত প্রত্যাশা প্রার্থীদের কৌশল নির্ধারণে চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
উপসংহার
সব মিলিয়ে এবারের নির্বাচন এক নতুন বাস্তবতার সামনে দাঁড়িয়ে। ভোটাররা আর নিছক অনুসারী নন; তারা বিশ্লেষক, পর্যবেক্ষক এবং নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন নাগরিক। তাই প্রার্থীদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে—বিশ্বাস অর্জন করা। কারণ আজকের ভোটারকে প্রভাবিত করা যায় না, তাকে বোঝাতে হয়।
এই জটিল আচরণই হয়তো গণতন্ত্রের পরিপক্বতার ইঙ্গিত—যেখানে ভোট কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং বিবেকের সিদ্ধান্ত।
লেখক গবেষক রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং আহ্বায়ক গনঅধিকার পরিষদ সরিষাবাড়ি উপজেলা শাখা জামালপুর