নিজস্ব প্রতিবেদক
রাষ্ট্রায়ত্ত যমুনা ফার্টিলাইজার কোম্পানী লিমিটেড (জেএফসিএল) দৈনিকভিত্তিক শ্রমিক–কর্মচারী সরবরাহসংক্রান্ত একটি চুক্তি বাতিল করেছে। ২১ আগস্ট ২০২৫ তারিখে স্বাক্ষরিত ওই চুক্তির ৩০ ও ৪৮ নম্বর শর্ত মোতাবেক মেসার্স আল-মমিন আউটসোর্সিং সার্ভিসেস লিমিটেডের সঙ্গে করা চুক্তি ও সংশ্লিষ্ট কার্যাদেশ বাতিলের বিষয়টি জানিয়ে একটি অফিস আদেশ জারি করেছে কারখানা কর্তৃপক্ষ।
যমুনা কারখানার প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার হাতিরপুলের আল-মমিন আউটসোর্সিং সার্ভিসেস লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী মো. মমিনুল ইসলামের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যমুনা সার কারখানার দৈনিকভিত্তিক শ্রমিক সরবরাহের চুক্তি ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় কর্তৃপক্ষ একাধিকবার লিখিতভাবে কারণ জানতে চায়। পরবর্তী সময়ে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে সময় চাওয়া হলেও সন্তোষজনক ব্যাখ্যা না পাওয়ায় চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
জেএফসিএলের এক প্রশাসনিক কর্মকর্তা বলেন, “চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শ্রমিক সরবরাহ কার্যক্রম চালু করার কথা ছিল। কিন্তু বারবার তাগাদা দেওয়ার পরও কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি। তাই চুক্তির শর্ত অনুযায়ী কার্যাদেশ ও চুক্তি বাতিল করা হয়েছে।”
অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শ্রমিক সরবরাহ না হওয়ায় উৎপাদন ও প্রশাসনিক কাজে ব্যাঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়। এ অবস্থায় ৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে চিঠির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিকে নির্দেশনা দেওয়া হলেও ৭ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্তও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় চুক্তি বাতিল করা হয়।
চিঠিতে স্বাক্ষর করেন জেএফসিএলের উপমহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মো. দেলোয়ার হোসেন। ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পক্ষে তিনি এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করেন।
এ বিষয়ে মেসার্স আল-মমিন আউটসোর্সিং সার্ভিসেস লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী মো. মমিনুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
চুক্তি বাতিলের ফলে কারখানায় দৈনিকভিত্তিক শ্রমিক সরবরাহের ভবিষ্যৎ ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। শ্রমিক প্রতিনিধিরা বলছেন, এ ধরনের সিদ্ধান্তে শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ও কারখানার নিয়মিত কার্যক্রমে প্রভাব পড়তে পারে। তবে কারখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিকল্প ব্যবস্থার মাধ্যমে উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
যমুনা সার কারখানার উপমহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, কারখানায় কর্মরত দৈনিকভিত্তিক শ্রমিকদের তিন মাসের বকেয়া বেতনের বিষয়টি দ্রুত বোর্ড মিটিংয়ে উপস্থাপন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।