
নিজস্ব প্রতিবেদক
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জামালপুর–৪ (সরিষাবাড়ী) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী ছয় প্রার্থী একমঞ্চে দাঁড়িয়ে নির্বাচনকালীন ও নির্বাচন–পরবর্তী সময়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার শপথ নিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা হাত ধরে সম্মিলিতভাবে শপথ পাঠ করছেন—যা স্থানীয় রাজনীতিতে বিরল উদ্যোগ হিসেবে আলোচনায় এসেছে।
ভিডিওতে দেখা যায়, শপথ পাঠ করান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মো. ফরিদুল কবির তালুকদার শামীম। তাঁর সঙ্গে শপথে অংশ নেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এড,মোহাম্মদ আব্দুল আওয়াল (দাঁড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. আলী আকবর (হাতপাখা), বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) মনোনীত প্রার্থী মেরিন ইঞ্জিনিয়ার মাহবুব জামান জুয়েল (কাস্তে), গণ–অধিকার পরিষদের প্রার্থী মো. ইকবাল হোসেন (ট্রাক) এবং নাগরিক ঐক্যের প্রার্থী মো. কবির হাসান (কেতলি)।
শপথবাক্যে প্রার্থীরা বলেন, নির্বাচনে ভোটারদের অংশগ্রহণ ও রায়কে সম্মান জানিয়ে ভবিষ্যতে তাঁরা এক পরিবারের সদস্যের মতো একযোগে কাজ করবেন। সরিষাবাড়ীকে মাদক ও দুর্নীতিমুক্ত করে শান্তি, নিরাপত্তা ও উন্নয়নের জনপদ হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তাঁরা।
সাধারণ ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা ও সহিংসতার আশঙ্কার মধ্যে এই সম্মিলিত শপথের উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন অনেকে। সরিষাবাড়ী উপজেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি মামুনুর রশীদ ফকির বলেন, নির্বাচন ঘিরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও প্রার্থীদের এমন বার্তা সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা বাড়াতে পারে।
তবে নির্বাচন বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন, এ ধরনের প্রতীকী শপথ বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে ভোটের দিন ও পরবর্তী সময়ে প্রার্থীদের আচরণ এবং কর্মীদের নিয়ন্ত্রণের ওপর। তা সত্ত্বেও স্থানীয় রাজনীতিতে সৌহার্দ্যের বার্তা দেওয়ার ক্ষেত্রে উদ্যোগটি ব্যতিক্রম বলেই মনে করছেন তাঁরা।
জামালপুর–৪ আসনে এবারের নির্বাচনে একাধিক দলের প্রার্থীর অংশগ্রহণে প্রতিদ্বন্দ্বিতা জমে উঠেছে। এর মধ্যেই ছয় প্রার্থীর একমঞ্চে শপথ নেওয়ার ঘটনা নির্বাচনী পরিবেশে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের আশা, প্রতিযোগিতা থাকলেও সরিষাবাড়ীতে নির্বাচন ঘিরে সহিংসতা নয়, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের সংস্কৃতি গড়ে উঠবে।