1. live@dainikjamalpursangbad24.com : দৈনিক জামালপুর সংবাদ 𝟐𝟒 : দৈনিক জামালপুর সংবাদ 𝟐𝟒
  2. info@www.dainikjamalpursangbad24.com : দৈনিক জামালপুর সংবাদ 𝟐𝟒 :
বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০২:৫২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
রাজটিকা : অক্ষয় থাকবে কি মায়ের ললাটে! সরিষাবাড়ীতে কর্মীদের প্রচারণা বাধা হুমকি ও নির্বাচনী অফিস বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ জামাতের প্রার্থীর যমুনা সার কারখানায় আবারও ইউরিয়া উৎপাদন শুরু ব্রিটিশদের শোষণের আইন ও ভারতের আধিপত্য বিস্তারের আইন পরিবর্তনে আমাদের আপত্তির কারণ: একটি বিশ্লেষণ আল আমিন মিলু তেতো কথা আল আমিন মিলু আজ পবিত্র লাইলাতুল বরাত আল আমিন মিলু ‎বৈষম্যহীন ৯ম পে-স্কেলের দাবিতে দুর্গাপুরে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হত্যার কোরিওগ্রাফি নিতপুর সীমান্তে মালিকবিহীন অবস্থায় ০২টি ভারতীয় মহিষ আটক দিগপাইত ধরনী কান্ত বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয়ে বার্ষিক ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক ও পুরস্কার বিতরনী অনুষ্ঠান

ব্রিটিশদের শোষণের আইন ও ভারতের আধিপত্য বিস্তারের আইন পরিবর্তনে আমাদের আপত্তির কারণ: একটি বিশ্লেষণ আল আমিন মিলু

প্রতিনিধির নাম :
  • প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক 

বাংলাদেশ রাষ্ট্র হিসেবে স্বাধীন হলেও তার আইনব্যবস্থা এখনো পুরোপুরি স্বাধীন হতে পারেনি—এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনামলে প্রণীত বহু আইন আজও বহাল রয়েছে, যেগুলোর মূল দর্শন ছিল শাসন সহজ করা, জনগণের অধিকার নিশ্চিত করা নয়। পরবর্তীতে ভারত উপমহাদেশ বিভক্ত হলেও সেই আইনগত কাঠামোর বড় অংশ অপরিবর্তিত থেকে যায়, বরং কিছু ক্ষেত্রে ভারতের আঞ্চলিক আধিপত্য বিস্তারের স্বার্থে আইন ও নীতিতে প্রভাব পড়েছে। প্রশ্ন হলো—এই আইনগুলো পরিবর্তনের বিষয়ে আমাদের আপত্তির কারণ কী?
১. ঔপনিবেশিক মানসিকতার উত্তরাধিকার
ব্রিটিশরা আইন বানিয়েছিল শাসক ও শাসিতের বিভাজন বজায় রাখতে। পুলিশ অ্যাক্ট ১৮৬১, দণ্ডবিধি, ফৌজদারি কার্যবিধির মতো আইনগুলোতে জনগণকে “নাগরিক” নয়, “নিয়ন্ত্রণযোগ্য প্রজা” হিসেবে দেখা হয়েছে। স্বাধীনতার পরও এই আইনগুলো বহাল থাকার পেছনে বড় কারণ হলো শাসক শ্রেণির মানসিকতা বদলায়নি। ক্ষমতায় গেলে তারা এসব আইনকে দমন ও নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার হিসেবেই ব্যবহার করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। তাই পরিবর্তনে আপত্তি আসে সুবিধাভোগী শ্রেণি থেকেই।
২. ক্ষমতা কাঠামো ভেঙে যাওয়ার ভয়
শোষণমূলক আইন বদলালে রাষ্ট্রের ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে যাবে।
প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আমলাতন্ত্রের একচেটিয়া ক্ষমতা কমবে, জনগণের অধিকার বাড়বে। এতে যাদের হাতে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত, তারা স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্কিত হয়। ফলে “স্থিতিশীলতা নষ্ট হবে”, “রাষ্ট্র দুর্বল হবে”—এই যুক্তি দেখিয়ে সংস্কারের বিরোধিতা করা হয়।
৩. ভারতের আঞ্চলিক আধিপত্য ও কূটনৈতিক চাপ
বাংলাদেশের অনেক নীতি ও আইন ভারতের স্বার্থের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত—বিশেষ করে পানি বণ্টন, ট্রানজিট, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা সহযোগিতা ও বাণিজ্য সংক্রান্ত বিষয়ে। এসব ক্ষেত্রে আইন বা চুক্তি পরিবর্তনের উদ্যোগ নিলে ভারতের কৌশলগত স্বার্থে আঘাত লাগতে পারে। ফলে কূটনৈতিক চাপ, অর্থনৈতিক নির্ভরতা ও রাজনৈতিক সমীকরণের কারণে আমাদের নীতিনির্ধারকরা আপত্তি তোলে বা নীরব থাকে।
৪. জাতীয় ঐক্যের অভাব ও দুর্বল গণচাপ
আইন পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজন শক্তিশালী গণআন্দোলন ও জাতীয় ঐকমত্য। কিন্তু আমাদের রাজনৈতিক বিভাজন, দলীয় স্বার্থ এবং মতাদর্শিক দ্বন্দ্বের কারণে জনগণের চাপ সংগঠিত হয় না। ফলাফল হলো—শাসকগোষ্ঠী সহজেই বলে দিতে পারে, “এটা এখন অগ্রাধিকার নয়।”
৫. সুবিধাবাদী বাস্তববাদ ও নির্ভরশীলতা
অনেক সময় বলা হয়, “এই আইনগুলো থাকলেও কাজ চলে যাচ্ছে।” এই সুবিধাবাদী বাস্তববাদ আমাদের বড় শত্রু। বিদেশি সহায়তা, আঞ্চলিক শক্তির ছায়া ও পুরোনো কাঠামোর ওপর নির্ভরশীলতা আমাদের আত্মবিশ্বাস দুর্বল করে দিয়েছে। ফলে মৌলিক সংস্কারের সাহস তৈরি হয় না।
উপসংহার
ব্রিটিশদের শোষণের আইন ও ভারতের আধিপত্য বিস্তারের প্রভাবে গড়ে ওঠা আইন পরিবর্তনে আমাদের আপত্তি মূলত তিন জায়গায়—ক্ষমতার স্বার্থ, মানসিক দাসত্ব এবং কূটনৈতিক নির্ভরশীলতা। স্বাধীনতা শুধু পতাকা আর মানচিত্রে নয়; স্বাধীনতা আসে আইন, নীতি ও মানসিকতায়। যতদিন আমরা জনগণকে কেন্দ্র করে আইন সংস্কারের সাহস দেখাতে না পারব, ততদিন শাসনব্যবস্থা বদলালেও শোষণের চরিত্র বদলাবে না।

লেখক গবেষক রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং আহ্বায়ক
গনঅধিকার পরিষদ সরিষাবাড়ি উপজেলা শাখা জামালপুর

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট