নিজস্ব প্রতিবেদক
পৃথিবীতে কেউ কারো আপন হয় না—শুধু আপন হওয়ার অভিনয় করে যায়।
এই কথাটা সেদিন খুব গভীরভাবে বুঝেছিলাম, যেদিন সবচেয়ে “আপন” মানুষটাই সবচেয়ে নিঃশব্দে দূরে সরে গেল।
সে এসেছিল খুব স্বাভাবিকভাবে। কথা বলত এমনভাবে, যেন বহু জন্মের চেনা। হাসিতে ছিল আশ্রয়ের উষ্ণতা, চোখে ছিল ভরসার প্রতিশ্রুতি। আমি ভেবেছিলাম—এই তো, জীবনে একজন তো পাওয়া গেল, যে সত্যিই আমার।
কিন্তু আসলে সে ছিল একজন নিখুঁত অভিনেতা। ভালোবাসার সংলাপগুলো মুখস্থ ছিল তার, অনুভূতির দৃশ্যগুলো সে জানত কীভাবে অভিনয় করতে হয়।
আমি ধীরে ধীরে নিজের সবটা দিয়ে দিয়েছিলাম। ভয়, দুর্বলতা, অপূর্ণতা—সব। আর সে? সে শুধু সময়টা নিয়েছিল। প্রয়োজন ফুরোলেই অভিনয়ের পর্দা নামিয়ে দিল। কোনো ঝগড়া নয়, কোনো অভিযোগ নয়—শুধু নীরব বিদায়।
নীরবতাই সবচেয়ে নিষ্ঠুর, কারণ সেখানে প্রশ্ন করারও সুযোগ থাকে না।
তারপর একদিন আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে বললাম—
“দোষটা তোর না, দোষটা তোর বিশ্বাসের।”
কারণ এই পৃথিবীতে মানুষ মানুষকে ভালোবাসে না, মানুষ ভালোবাসে নিজের প্রয়োজন পূরণ হওয়াটাকে। প্রয়োজন মিটলে মানুষ বদলায় না—মুখোশ খোলে।
তবু মজার ব্যাপার কী জানো?
এই তেতো অভিজ্ঞতার মাঝেও এক ফোঁটা মিষ্টি রয়ে যায়।
আমি শিখে গেছি—সবাই আপন না, আর যে আপন নয়, তাকে আপন ভাবতে নেই।
এটাই জীবনের তেতোমিঠা শিক্ষা।
আজ আর কাউকে আঁকড়ে ধরি না। দূরত্ব বজায় রাখি। কারণ জানি—
আপন হওয়ার অভিনয় খুব সুন্দর হতে পারে,
কিন্তু সত্যিকারের আপন হওয়া খুব বিরল।
আর আমি এখন বিরল জিনিসের অপেক্ষায় আছি,
অভিনয়ের নয়—নীরব, সৎ, নিঃশর্ত আপনের।
সরিষাবাড়ি জামালপুর