প্রদীপ চন্দ্র মম
এক সপ্তাহে সাতটা আগুন—
কাকতাল নয়,
এটা মহড়া।
ভোটের আগে ভয় ছড়ানোর
পরীক্ষামূলক আগুন।
মিরসরাই জ্বলছে,
কিন্তু রাষ্ট্রের চোখ বন্ধ—
কারণ আগুনটা
সংখ্যালঘুদের পল্লীতে।
থানা আসে, দাঁড়িয়ে দেখে,
আগুন দেখে না—
কারণ রিপোর্টে আগুন লাগে না,
লাগে শুধু “অভিযোগ নাই” সিল।
ঘরে মানুষ,
দরজায় তালা,
বাইরে রাষ্ট্রের পাহারা—
এটা আগুন না,
এটা হত্যার কোরিওগ্রাফি।
রাউজান পুড়েছে,
মিরসরাই পুড়ছে,
কাল আর কোথায়?
রাষ্ট্র জানে,
কিন্তু জানার ভানটাই তার নিরাপত্তা।
তারা বলে—
“সাম্প্রদায়িক নয়”
যেন আগুন ধর্ম মানে,
যেন পুড়ে যাওয়া ঘর
ভোটের রং দেখে।
পাঁচ আগস্টের পর
দেশটা বারবার প্রমাণ করেছে—
এই মাটিতে
সংখ্যালঘু মানে
পরিত্যক্ত নাগরিক।
সংবিধান দেয় প্রতিশ্রুতি,
রাষ্ট্র দেয় অজুহাত,
আর আগুন দেয় ফলাফল।
ভোটের দিন এলে বলা হয়—
“সবাই সমান”
কিন্তু রাতে ফিসফিস করে বলা হয়—
“আগুনটা ওদিকেই দাও।”
নির্বাচন বাঁচাতে যদি
মানুষ পুড়তে হয়,
তবে সেই নির্বাচন
গণতন্ত্র নয়—
দাহক্রিয়া।
সংখ্যাগরিষ্ঠ যদি ঢাল না হয়,
সে নিজেই অপরাধের অংশ।
নীরবতা এখানে নিরপেক্ষতা নয়—
এটা আগুনে ফুঁ দেওয়া।
এই আগুন থামাও,
নইলে ইতিহাস একদিন লিখবে—
বাংলাদেশ পুড়েছিল,
কারণ রাষ্ট্র
আগুন চিনত,
কিন্তু মানুষ চিনত না।
০৩/০২/২০২৬ খ্রিঃ।