নিজস্ব প্রতিবেদক
লাইলাতুল বরাত—মুসলিম উম্মাহর জীবনে এক গভীর তাৎপর্যপূর্ণ রজনী। ‘বরাত’ শব্দের অর্থ মুক্তি, অব্যাহতি বা নাজাত। অর্থাৎ এই রাত ক্ষমা, করুণা ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক অনন্য সুযোগ। শাবান মাসের মধ্যরাতে এই রজনী আমাদের মনে করিয়ে দেয়—মানুষ হিসেবে আমরা যতই ভুল করি না কেন, আল্লাহর রহমতের দরজা কখনো বন্ধ হয় না।
ধর্মীয় বর্ণনায় পাওয়া যায়, এই রাতে আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দেন। যারা আন্তরিক তওবা করে, অতীতের ভুলের জন্য অনুতপ্ত হয় এবং ভবিষ্যতে সঠিক পথে চলার সংকল্প নেয়—তাদের জন্য এই রাত হতে পারে জীবনের মোড় ঘোরানো এক সন্ধিক্ষণ। এখানেই লাইলাতুল বরাতের মূল শিক্ষা: আত্মশুদ্ধি।
আজকের সমাজে আমরা উৎসবের আচার-অনুষ্ঠানে অনেক সময় এতটাই ডুবে যাই যে, উপলব্ধির জায়গাটা হারিয়ে ফেলি। লাইলাতুল বরাত কেবল আতশবাজি বা লোক দেখানো ইবাদতের রাত নয়। এটি আত্মসমালোচনার রাত—আমি কী করছি, কোথায় ভুল করছি, কার হক নষ্ট করেছি, কার মনে কষ্ট দিয়েছি—এসব প্রশ্ন নিজেকে করার রাত।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সামাজিক দায়বদ্ধতা। ক্ষমা চাওয়ার আগে ক্ষমা করা শিখতে হয়। এই রাত আমাদের শেখায়—শুধু নিজের জন্য নয়, সমাজের জন্যও দোয়া করতে। অসহায়, নিপীড়িত, অন্যায়ের শিকার মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতা গড়ে তুলতে। কারণ প্রকৃত ধর্মচর্চা কখনোই মানুষ থেকে মানুষকে বিচ্ছিন্ন করে না; বরং মানুষকে মানুষের আরও কাছে টেনে আনে।
লাইলাতুল বরাত আমাদের জীবনে একটি বার্তা দেয়—জীবন ক্ষণস্থায়ী, সময় সীমিত। আজ যে সুযোগ, কাল তা নাও থাকতে পারে। তাই অহংকার, হিংসা, প্রতিহিংসা ঝেড়ে ফেলে নতুনভাবে শুরু করার সাহস এই রাত আমাদের দেয়।
সবশেষে বলা যায়, লাইলাতুল বরাত কোনো এক রাতের ইবাদতে সীমাবদ্ধ নয়; এটি একটি চেতনা। যদি এই রাত আমাদের মনন, চরিত্র আর আচরণে পরিবর্তন আনতে পারে—তবেই এর প্রকৃত সার্থকতা।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে এই পবিত্র রজনীর শিক্ষা হৃদয়ে ধারণ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।