
খায়রুল ইসলাম সুইট ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি রাজশাহী:
রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর উদ্যোগে আয়োজিত বিশাল জনসভা আজ এক জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের রাজশাহীতে আগমনকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মাঝে উৎসবমুখর পরিবেশ লক্ষ্য করা গেছে।

মাজার জিয়ারত ও জনসভায় যোগদান
বিকেলে জনসভা স্থলে উপস্থিত হওয়ার আগে তারেক রহমান হযরত শাহমখদুম রুপোশ (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন।
এরপর দুপুর ২টার দিকে তিনি সভাস্থলে পৌঁছালে মুহুর্মুহু স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। মাঠ ছাড়িয়ে আশপাশের সড়কগুলোতেও তিল ধারণের জায়গা ছিল না।
উল্লেখযোগ্য উপস্থিতিবৃন্দ
রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুনুর রশিদের সভাপতিত্বে এবং মহানগর সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটনের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন তারেক রহমান। জনসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন:
সাবেক মেয়র ও বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান মিনু।
আলোচিত জননেতা চান চেয়ারম্যান।
রাজশাহী ও বিভাগের বিভিন্ন জেলার শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
বড় তিন ঘোষণা: পদ্মা ব্যারেজ ও ঋণ মওকুফ
জনসভায় তারেক রহমান রাজশাহীর মানুষের জন্য তিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন, যা উপস্থিত জনগণের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে:
পদ্মা নদী সংস্কার: তিনি বলেন, রাজশাহীর প্রাণ পদ্মা নদীকে বাঁচাতে এর ব্যাপক সংস্কার কাজ হাতে নেওয়া হবে।
পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ: উত্তরবঙ্গের কৃষি ও পানির সমস্যা সমাধানে আধুনিক ‘পদ্মা ব্যারেজ’ নির্মাণের ঘোষণা দেন তিনি।
কৃষি ঋণ মওকুফ: কৃষকদের স্বস্তি দিতে তিনি ঘোষণা করেন যে, বিএনপি ক্ষমতায় আসলে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সকল কৃষি ঋণ এবং ঋণের সুদ মওকুফ করা হবে।

সভাপতির বক্তব্য
সভায় বক্তারা বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে আগামী দিনে দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনু তার বক্তব্যে রাজশাহীর উন্নয়নে তারেক রহমানের ভিশনারি নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, সুশৃঙ্খলভাবে জনসভা শেষ করে নেতাকর্মীরা মাঠ ত্যাগ করছেন। শহরের মোড়ে মোড়ে মোতায়েন ছিল বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।